নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বরাবো এলাকায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও লেভেলবিহীন উপকরণ দিয়ে মিষ্টি প্রস্তুতসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফুলকলি কারখানার বিরুদ্ধে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার এবং পরিবেশ দূষণসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিষ্ঠানটিতে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এরপরও যেন কমছে না এসব অনিয়মের অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন,অভিযানের পর কিছুদিন পরিস্থিতির উন্নতি হলেও পরে আবার আগের মতোই নানা অনিয়ম শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রাব্বানী বলেন, কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য ও দুর্গন্ধের কারণে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। আমরা ঘর থেকে বের হলে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে যাই।
বরাবো এলাকার কবির হোসেন বলেন, ফুলকলির নানা অভিযোগের কারণে বিভিন্ন সময় প্রশাসনের লোকেরা অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও তারা পরিবেশ দূষণ করেই যাচ্ছে। এলাকার আজাহার আলী বলেন, ফুলকলি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছি।
জানা গেছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ হচ্ছে কি না তা দেখতে বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত কারখানায় অভিযান চালায়। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জরিমানা করেই দায়িত্ব শেষ করলে হবে না। খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত তদারকি এবং আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম আর না ঘটে।
এ বিষয়ে ফুলকলি ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মাসুদুল ইসলাম বলেন, ভুয়া রিপোর্টের কারণে আমাদের কারখানায় অন্যায় ভাবে জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের ফ্যাক্টরি কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে না। এলাকাবাসীর অভিযোগ সঠিক নয়।