পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে শালিসের নামে সনাতন ধর্মাবলম্বীর জমি বিক্রি করে ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতারা।
তাদের দাবি, প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গত ২১ আগস্ট ‘দৈনিক সংবাদ বাংলাদেশ’-এর অনলাইন সংস্করণে ‘মির্জাগঞ্জে শালিসের নামে সনাতন ধর্মাবলম্বীর জমি বিক্রি করে ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতাদের ঘিরে তোলপাড়’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর প্রতিবাদে মোহাম্মদ গোলাম সরোয়ার, মোহাম্মদ মন্টু ও মোহাম্মদ আলম লিখিত প্রতিবাদ জানান।
প্রতিবাদলিপিতে তারা বলেন, একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের লক্ষ্যে এলাকার প্রায় ২০০ জন গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে প্রকাশ্য শালিস অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সর্বসম্মতিক্রমে বিরোধের নিষ্পত্তি করা হয়। তাদের দাবি, বাদী আঁখি আক্তারের দেনমোহর, খোরপোষ ও অন্যান্য পাওনা বাবদ নির্ধারিত ৪ লাখ টাকা নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংশ্লিষ্ট প্রাপকের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে কাজী অফিসের মাধ্যমে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তালাক সম্পন্ন হয়।
এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় থানা পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতা ছিল বলেও তারা দাবি করেন।
শালিসকারীদের কেউ ওই অর্থ থেকে কোনো টাকা গ্রহণ বা আত্মসাৎ করেননি বলে প্রতিবাদে উল্লেখ করা হয়।জমি বিক্রির অভিযোগ প্রসঙ্গে তারা বলেন, পরিতোষ বাবু তার পুত্রবধূর দেনমোহর পরিশোধের জন্য জমি বিক্রি করেছেন কি না, কিংবা অন্য কোনো উপায়ে অর্থের ব্যবস্থা করেছেন কি না—এ বিষয়ে শালিসকারীদের কোনো ভূমিকা ছিল না। কাউকে জোরপূর্বক জমি বিক্রি করতে বাধ্য করা বা মানসিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগও তারা অস্বীকার করেন।
প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, এলাকার কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে শালিসকারীদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের কাছে একপেশে ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন। তাদের দাবি, শালিসের সিদ্ধান্তে উভয় পক্ষ সন্তুষ্ট হয়ে সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করে শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যায়।প্রতিবাদকারীরা প্রকাশিত সংবাদটিকে একপেশে ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের বক্তব্যসহ প্রতিবাদটি প্রকাশের অনুরোধ করেছেন।