সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সিনিয়র সচিব ও ডিটিসিএর চেয়ারম্যান মসিউর রহমানের উদ্যোগ ও সার্বিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
‘৫ কোটি গাছের চারা রোপণ কর্মসূচি ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে সবুজ ও নান্দনিক করে তোলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম কাজল, প্রধান সমন্বয়ক, প্রস্তাবিত সলিমাবাদ থানা সংগ্রাম পরিষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সীমানা প্রাচীর বা বেষ্টনী রয়েছে—এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৯ নম্বর ভাটখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২১ নম্বর মুন্সিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পুটিখালীর অজিয়ার স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে ঘিরে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে, যাতে ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মাটির ক্ষয় রোধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে উপকূলীয় মোরেলগঞ্জে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যা পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে আরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু চারা রোপণ নয়, রোপণ করা প্রতিটি গাছ যাতে বেড়ে উঠতে পারে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণের ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলবে।