বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ২৩৯ কিশোরগঞ্জের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র চন্দ্র ভৌমিকের পরলোকগমন কাঁঠালিয়ার কৃতি সন্তান মোঃ শামসুল হক সুমন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কোতোয়ালি থানা তাঁতি দলের সভাপতি নির্বাচিত নান্দাইলে ৬টি অবৈধ জাল উদ্ধার, জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস ১০০ মুসল্লিকে ওমরাহ করানোর সুযোগ করে দেয়ার ঘোষণা মাহমুদ হোসেন টিটুর, প্রথম ধাপে গেলেন পাঁচজন মোরেলগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ মোরেলগঞ্জের খাউলিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সালেহ খানের মতবিনিময় পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে মোরেলগঞ্জের খাউলিয়া বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত সান্তাহার স্টেশনের নব-নির্মিত ওভার ব্রীজের উদ্বোধন

নান্দাইলে ৬টি অবৈধ জাল উদ্ধার, জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস

এম আর বাবুল, নান্দাইল প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫৭৫১ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের নান্দাইলে নরসুন্দা নদীতে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত উপজেলার আচারগাঁও ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা ও কাকচর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আচারগাঁও ব্রিজ সংলগ্ন নরসুন্দা নদী থেকে একটি কারেন্ট জাল ও চারটি চায়না দুয়ারি জাল এবং কাকচর এলাকা থেকে আরও একটি কারা জাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা জাল ব্যবহারের জন্য স্থাপিত বাঁশ ও খুঁটিও অপসারণ করা হয়। তবে এসব জালের কোনো মালিককে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

পরে উদ্ধার করা চারটি চায়না দুয়ারি জাল ও দুটি কারেন্ট জাল নান্দাইল উপজেলা পরিষদের সামনে জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানে নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুল রহমান লিটন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন ভূঁইয়া, উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশের এসআই খাইরুল ইসলামসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া নান্দাইল উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেনসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিষিদ্ধ ও ক্ষুদ্র ফাঁসের জালে বড় মাছের পাশাপাশি পোনা ও ছোট মাছও আটকা পড়ে। এতে নদীতে মাছের পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। নদীতে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, “একসময় আমরা এই নদীর মাছ ধরে জীবন-জীবিকা চালাতাম। এখন নদীতে আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। নিষিদ্ধ জালের কারণে ছোট-বড় সব মাছই ধরা পড়ে। এভাবে চলতে থাকলে নদীতে মাছ থাকবে না।”

অভিযান চলাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত বলেন, “নান্দাইলের কোথাও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং নদীতে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নদী ও জলাশয় রক্ষায় সবাইকে আইন মেনে মাছ ধরার আহ্বান জানাচ্ছি।”

উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুল রহমান লিটন বলেন, “নদীর মাছের ওপর সাধারণ মানুষেরও অধিকার রয়েছে। যাতে সাধারণ মানুষ নদী থেকে মাছ ধরে খেতে পারেন এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষা পায়, সে জন্য নান্দাইলের কোনো নদীতে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।”

মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে নিষিদ্ধ জাল ও ক্ষতিকর উপায়ে মাছ ধরা বন্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। Protection and Conservation of Fish Act, 1950 অনুযায়ী সরকার নির্দিষ্ট জাল, ফাঁদ ও মাছ ধরার পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনে কারেন্ট জাল তৈরি, আমদানি, বাজারজাত বা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। আর কারেন্ট জাল বহন, পরিবহন, মালিকানা, দখল বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..