বরগুনার তালতলী উপজেলায় জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ প্রকল্পের আওতায় ৯টি খাল খননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দায়সারা খননকাজ শেষে খালের বাঁধ কেটে পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে, যাতে কাজের ত্রুটি আড়াল থাকে। এতে সরকারের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার প্রকল্প প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ প্রকল্পের অর্থায়নে নলবুনিয়া সমবায় সমিতির মাধ্যমে ১৭ হাজার ৫৫২ দশমিক ৫ মিটার খাল খননের কাজ হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮৩ টাকা। খননের তালিকায় রয়েছে—নলবুনিয়া খাল, চিলু মাঝির খাল, সুন্দরিয়া খাল, সুন্দরিয়া ব্রাঞ্চ খাল, তাঁতীপাড়া খাল, চামোপাড়া খাল, মৌরাবির খাল, বথিপাড়া খাল ও পাওয়াপাড়া-মোয়াপাড়া খাল।
অভিযোগ রয়েছে, সমিতির মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়নের কথা থাকলেও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান বাচ্চু নিজস্ব লোকজন দিয়ে ভেকু মেশিনে খননকাজ পরিচালনা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, খালের দুই পাড়ের সামান্য মাটি কেটে গভীরতা না বাড়িয়েই কাজ শেষ দেখানো হচ্ছে। একই সঙ্গে কাজ চলাকালেই বাঁধ কেটে খালে পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে।
রবিবার সরেজমিনে তাতীপাড়া, চামোপাড়া, মৌরাবির, বথিপাড়া ও পাওয়াপাড়া-মোয়াপাড়া খাল ঘুরে দেখা যায়, একদিকে ভেকু মেশিনে খনন চলছে, অন্যদিকে বাঁধ কেটে পানি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। খননকাজ তদারকিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি।
বথিপাড়া খালের পাড়ের বাসিন্দা হাবিব হাওলাদার, মো. মুছা, আব্দুল খালেক ও আব্দুল মান্নান বলেন, নামমাত্র খনন করা হচ্ছে। গভীর না করায় বর্ষা এলেই পাড় ভেঙে খাল ভরাট হয়ে যাবে। এতে কৃষকদের কোনো উপকার হবে না।
ভেকু মেশিন চালক ইউসুফ জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছেন। তিনি স্বীকার করেন, খননকাজ চলাকালেই বাঁধ কেটে পানি প্রবেশ করানো হয়েছে।
প্যানেল চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশ অনুসারেই কাজ চলছে। তবে কাজ শেষ না হতেই বাঁধ কাটার বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, সঠিকভাবেই খাল খনন করা হচ্ছে। কিছু ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।
তালতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, এ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয় কৃষকরা পানি চলাচলের জন্য বাঁধ কেটে থাকতে পারেন।
বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকল্প পরিচালক এনামুল কবির জানান, একটি স্থানে অনিয়মের বিষয় অবগত আছেন। সেখানে কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং দ্রুত কনসালটেন্ট পাঠিয়ে কাজ তদারকি করা হবে।
স্থানীয় উপকারভোগীরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।