মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বেতাগীতে পল্লীবিদ্যুতের ভূতুড়ে ও অসঙ্গতিপূর্ণ বিলে গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ হরিরামপুরে জমি বিরোধে বোনকে মারধর, হোটেলে ভাঙচুরের অভিযোগ ভাই-ভাবির বিরুদ্ধে নান্দাইল উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে টিকিয়ে রাখা রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব : তথ্যমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে প্রবাসীর বাড়িতে চুরির অভিযোগ আদমদীঘি উপজেলায় ইউএনও মাসুমা বেগম প্রশংসায় ভাসছেন ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৪৫৮ বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সমাধিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বরগুনা-১ আসনে ভোট লড়াই নজরুল মোল্লা বনাম অলি উল্লাহ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৮৮৫ বার পঠিত

চারবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়া ইসলামী চিন্তাবিদ ও কেওরাবুনিয়া পীর হিসেবে পরিচিত মরহুম মাওলানা আব্দুর রশিদের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণে বরগুনা-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তার ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান অলি উল্লাহ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মনোনয়ন নিয়ে তিনি মাঠে নেমেছেন।

বরগুনা-১ আসনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটারদের মতে মূল লড়াই হচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলি উল্লাহ ও বিএনপির প্রার্থী, তিনবারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মোল্লার মধ্যে। অন্য দুই প্রার্থী হলেন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গির হোসাইন এবং জাতীয় পার্টি-জেপির প্রার্থী জামাল হোসাইন।

জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার কেওরাবুনিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া মাওলানা আব্দুর রশিদ স্থানীয়ভাবে ‘কেওরাবুনিয়া পীর’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও তিনি চারবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রতিবারই পরাজিত হন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর কাছে পরাজিত হন। ওই নির্বাচনে শম্ভু পেয়েছিলেন ৪৪ হাজার ৭২২ ভোট এবং আব্দুর রশিদ পান ২৯ হাজার ৫০৭ ভোট।

১৯৯৬ সালেও একই দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। সে বছর শম্ভু প্রায় ৫৫ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর আব্দুর রশিদ পান ২৮ হাজার ৪৭৯ ভোট। ওই দুই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন আব্দুর রশিদ।

২০০১ সালে তিনি আবারও নির্বাচনে অংশ নেন, যেখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি। তবে ওই নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী মতিয়ার রহমানের চেয়েও বেশি ভোট পান।

পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি। ২০১৮ সালে মাওলানা আব্দুর রশিদ মৃত্যুবরণ করেন।

বাবার ধারাবাহিক পরাজয় মেনে নিতে না পেরে ছেলে মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলি উল্লাহ ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হন। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বিজয়ী হন বলে অভিযোগ ওঠে।

এবার ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবার হেরে যাওয়া আসন থেকে বিজয় অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন অলি উল্লাহ।

এ নির্বাচনে বরগুনা-১ আসনের তিনটি উপজেলা—আমতলী, তালতলী ও বরগুনা সদর—মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন। এর মধ্যে আমতলীতে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৮, তালতলীতে ৮৭ হাজার ২০ এবং বরগুনা সদরে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১ জন ভোটার রয়েছেন।

চারজন প্রার্থীই বরগুনা সদর উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় আমতলী ও তালতলী উপজেলার ২ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৮ ভোটার দুই প্রধান প্রার্থী—নজরুল ইসলাম মোল্লা ও অলি উল্লাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ দুই উপজেলার ভোটারদের মন জয়ের লক্ষ্যে উভয় প্রার্থীই মাঠে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন।

প্রচারণায় অলি উল্লাহর বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে তার বাবার রেখে যাওয়া ভক্তকুল, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সমর্থন। অন্যদিকে নজরুল ইসলাম মোল্লার পুঁজি দলীয় সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটারভিত্তি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলি উল্লাহ বলেন, আমার বাবা মাওলানা আব্দুর রশিদ কেওরাবুনিয়ার পীর হিসেবে মানুষের কাছে শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন। চারবার নির্বাচন করেও তিনি জয়ী হতে পারেননি। বাবাকে পরিকল্পিতভাবে পরাজিত করা হয়েছিল বলে আমাদের বিশ্বাস। বাবার সেই হার কোনো সন্তানই মেনে নিতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, বাবার স্বপ্ন ছিল বরগুনা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়ে মানুষের সেবা করার। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই আমি নির্বাচনে নেমেছি। এবার ভোটাররা সুযোগ পেয়েছেন, তারা এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না বলেই আমি আশাবাদী।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..