পটুয়াখালীর জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী সরকারি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বর্তমানে উপাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রায় ১২ কোটি টাকা দূর্ণীতি করে আত্মসাৎতের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। উপজেলার সুবিদখালী সরকারি কলেজর সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বর্তমান উপাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান আজাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।
এসব আত্মসাৎতের বিষয়ে কলেজের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদন ও নিরিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে আসাদুজামান আজাদের বিরুদ্ধে দূর্ণীতির একাধিক অভিযোগ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
কলেজের অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা ও অর্থ আত্মসাৎতের বিষয়ে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার/সভাপতি জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ পাঠান । অভিযোগসুত্রে জানা যায়, কলেজের নিজস্ব ১২ টি দোকান ঘর রয়েছে। যার আয়-ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট কোন হিসেব নেই কলেজের রেজিষ্টি খাতায়। দোকান ভাড়ার টাকা নেই কোন একাউন্টে।
এছাড়া ব্যয়ের বিবরণ দাখিল করলেও আয়ের কোন যৌক্তিক বিবরণী দাখিল করতে পারিনি তিনি। এমনকি বিভিন্ন স্তরের / শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীর ভর্তি,ফরম ফিলাপ এবং পরিক্ষা সংক্রান্ত আয়-ব্যয়ের হিসাব অধ্যবদি পর্যন্ত তদন্ত কমিটির কাছে দাখিল করতে পারেনি। প্রতিবেদনে আরও জানাযায়, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছলতার ক্ষেত্রে সকল উৎস হতে আয়ের অংশ নির্দিষ্ট একাউন্টে জমা হবে এবং নিরিক্ষা কমিটির মাধ্যমে ব্যয় অনুমোদনপূর্বক উত্তোলন করতে হবে । অথচ কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বর্তমানে উপাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান নামে মাত্র তার অনুসারির কিছু শিক্ষক নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে প্রতিষ্ঠানের অর্জিত আয় সমুহ খরচ করেছেন। শুধু সরকারি নির্ধারিত আংশ ফান্ডে জমা দিয়ে।
২০১৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারীতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শুরু হয় তার রামরাজত্ব। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান মিয়ার ভাতিজা পরিচয় দিয়ে সুবিদখালী সরকারি কলেজকে ফ্যাসিস্টের একটি আস্তনা তৈরি করে আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে সকল অপর্ম চালাতেন। তিনি তার দুর্নীতি চালিয়ে জাবার জন্য কলেজটি সরকরারি ভাবে আত্তীকরণ যাতে না হয় এজন্য তিনি সাবেক সংসদ শাহজাহাম মিয়া ও পটুয়াখালী আওয়ামী মহিলা এমপি কানিজ সুনতানাকে দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গতো ৫/২/২০২৩ এবং ১৯/২/২৩ তারিখে কলেজে অধ্যক্ষ না দিয়ে দুর্নীতিবাজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আসাদকে দিয়ে দায়িত্ব পালন করার জন্য ডিও দিয়ে তাকে দুর্নীতি করার সুযোগ করে দেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী-গীন এর ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি উপাধ্যক্ষ পদটি ভাগিয়ে নেন।

দূর্ণীতিবাজ আসাদুজ্জামানকে স্বপদে বহাল রাখতে সাবেক সাংসদ সদস্যের ডিউ লেটার।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কলেজ থেকে অবৈধ পন্থায় হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পটুয়াখালী শহরে করেছেন পাঁচতলা বাড়ি কিনেছেন পরিবারের জন্য দামিগাড়ি । এদিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান এর বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তৎকালীন সময় দুদকের নির্দেশে স্থানীয় মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) / কলেজের সভাপতি তদন্ত করেছেন বলে জানা গেছে।
আরো জানা গেছে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান ২০১৭ ইং সাল থেকে ২০২৪ইং সাল পর্যন্ত গত সাত বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাত করেছেন। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষাবর্ষ ২০১৭-১৮ থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত বিভিন্ন খাতের আয় থেকে প্রায় ১২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।
২০১৭-১৮ থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত সময়কালে এইচএসসি, বিএম, ডিগ্রি ও অনার্স পর্যায়ের ভর্তি, ফরম ফিলআপ, টিউশন ফি, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা, কলেজ স্টল ভাড়া এবং বিভিন্ন প্রশংসাপত্র বাবদ আদায়কৃত অর্থ যথাযথভাবে সরকারি খাতে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
করোনাকালীন সময়ে সরকার থেকে ফেরত দেওয়া অর্থ নামমাত্র ফেরত দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনার জন্য বিভিন্ন কলেজ থেকে নেওয়া কেন্দ্র ফি বাবদ অর্থের বড় অংশ তিনি আত্মসাৎ করেছেন।
২০১৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের সময় কলেজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদসহ নিট ক্যাশ ছিল প্রায় ২৭ লাখ টাকা। এরপর সাত বছরে কলেজের নামে বিপুল আয় হলেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। ভাউচারে উন্নয়ন দেখানো হলেও তা ভুয়া বলে একাধিক শিক্ষকের দাবি।
সব মিলিয়ে হিসেব অনুযায়ী তার দায়িত্বে থাকা ৭ বছরে সর্বমোট আত্মসাৎকৃত টাকার পরিমান প্রায় ১২ কোটি টাকার উপরে। গত ১৯.০৮.২০২৫ মহা-পরিচালকের কার্যালয় শিক্ষা, অডিট অধিদপ্তর সেগুনবাগিচার স্মারক নং-৮২.১৬.০০০০.১০০.৯৯.২৫১.২৫.৩৬২ সূত্র ধরে আমাদের অনুসন্ধানী টিম নিরীক্ষা অধিদপ্তরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলে এ প্রতিবেদককে জানান সুবিদখালী সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের তদন্ত চুড়ান্ত পর্যায়। আনিত অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। বিষয়টির তদন্ত প্রতিবেদন খুব শীঘ্রই আমরা মন্ত্রণালয়ে প্রেরন করা হবে।
গন্তব্য এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর এর শিক্ষা ভবনের গত ১৮.১২.২০২৫ স্মারক নং-ডিআইএ/পটুয়াখালী/৯টি.৯৯ (অংশ)/খুলনা এর সূত্র ধরে উপাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে দূর্ণীতির একটি তদন্ত কমিটি করে যে স্মরক প্রদান করা হয় সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা যায় গত ২৮.১২.২৫ এবং ২৯.১২.২৫ দুই দিন যাবত শিক্ষা পরিদর্শক মাহমুদুল হাসানকে দলপ্রধান করে যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল সেই তদন্তকালীন সময়ে উপাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান তার স্বপক্ষে কোন দালিলিক প্রমানদি উপস্থাপন করতে পারেনি। যার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটির কাছে তিনি অভিযুক্ত বলে প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হয়েছে। তদন্ত কমিটি তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে অভিহিত করবেন বলে জানান।
দূর্ণীতির টাকায় তিনি পটুয়াখালী সদরে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে বানিয়েছেন একটি বিলাসবহুল ৫ তলা বাড়ী, কিনেছেন পরিবারের জন্য দামি গাড়ি যার নাম্বার ঢাকা মেট্র গ ৪৯-৩৭৯৫ আরো কিনেছেন পটুয়াখালী শহরে কয়েক একর জমি। তার দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে একাদিক বার মানববন্ধও হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আসাদুজ্জামানের কাছে মোবাইল ফোনে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছি পরে কথা বলবো বলে আর ফোন ধরেননি এমনকি তাকে খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

নিজেকে স্বপদে বহাল রাখতে অধ্যক্ষ নিয়োগ না দিতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি।
এখন দেখার বিষয় এই দূর্ণীতিবাজ আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টরা কি ব্যবস্থা গ্রহন করেন।