মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ন

পাইকার সংকটে তরমুজ বাজার, চাষির চোখে লোকসানের শঙ্কা

আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ৫৭৫১ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

বরগুনার আমতলী উপজেলায় চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন হলেও বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর আমতলীতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ২৪৯ হেক্টর জমি। তবে তা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ৪ হাজার ৩০৯ হেক্টরেরও বেশি জমিতে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এ উপজেলায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু বাজার দর কম থাকায় সম্ভাব্য আয় অনেকটাই কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলজুড়ে তরমুজের খেত। খেতের মাঝে খড়কুটো দিয়ে তৈরি অস্থায়ী টংঘরে দিন-রাত অবস্থান করছেন শত শত কৃষক। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে পরিচর্যা ও বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরলস পরিশ্রম করছেন তারা।

চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামের তরমুজ চাষি মামুন মোল্লা জানান, ১০ কানি জমি প্রায় ৫ লাখ টাকায় লিজ নিয়ে তিনি ৫০ হাজার তরমুজের চারা রোপণ করেন। ফলন ভালো হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ তিনি। গত বছর অনেক পাইকার এলেও এ বছর তেমন দেখা যাচ্ছে না। যে দাম বলছে, তাতে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে, বলেন তিনি।

বর্তমানে আমতলীতে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে পিস হিসেবে। ৫ থেকে ৭ কেজি ওজনের একটি তরমুজের দাম ১২০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম বলে দাবি চাষিদের।

হলদিয়া ইউনিয়নের চিলা গ্রামের চাষি সিদ্দিকুর রহমান ও আলম জানান, অধিকাংশ কৃষক উন্নত জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু পাইকারের অভাব ও কম দামের কারণে খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গুলিশাখালী ইউনিয়নের চাষি শাহিন সিকদার ও শ্রমিক সবুজ খান বলেন, তরমুজ চাষে সার্বক্ষণিক শ্রম দিতে হয়। শ্রমিকদের মাসিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেতন দিতে হয়, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও মালিকের। প্রত্যাশিত লাভ না হওয়ায় অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাসেল বলেন, চলতি বছর তরমুজের উৎপাদন ভালো হয়েছে। তবে বাজারদর কম থাকায় চাষিরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, আমতলীর মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ উৎপাদন করে স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারদের আমতলী থেকে তরমুজ ক্রয়ের জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে আমতলীতে তরমুজের ভালো ফলন ও বাজারদরের কারণে কৃষকদের মধ্যে এ চাষে আগ্রহ বেড়েছিল। তবে চলতি মৌসুমে দাম কমে যাওয়ায় সেই আশায় কিছুটা ভাটা পড়েছে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..