মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত যৌথ সামরিক হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার পরিচিত সমাজসেবক মোঃ কামরুল ইসলাম তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন, মানবতা ও ন্যায়বিচারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কামরুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, “মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দোসর ইসরায়েলি জায়নবাদ ইরানে যে সামরিক হামলা চালিয়েছে, তা শুধু একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত নয়, বরং পুরো বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ভয়াবহ হুমকি।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তিনি বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন হামলায় শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায়। তার ভাষায়, “অর্ধশতাধিক নিষ্পাপ শিশুর প্রাণহানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।” তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘ-এর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে একটি নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করে এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তার মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নীরবতা বা দুর্বল অবস্থান ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলাকে আরও উৎসাহিত করতে পারে।
কামরুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে এই হামলা পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, “কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী কিছু দেশও এই অন্যায় যুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।”
তিনি বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ধরনের অন্যায় ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো জরুরি। তার মতে, শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের পক্ষে সোচ্চার হওয়াই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হবে। একই সঙ্গে তিনি মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় সকলকে সচেতন ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।