সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন

ওসমান হাদি হত্যায় প্রধান আসামি ফয়সালসহ গ্রেফতার ২

দৈনিক সংবাদ বাংলাদেশ ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৫৮৯৬ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে। রোববার (০৮ মার্চ) বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ শাখা। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন। রোববার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার পর দুই বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে পালিয়ে আসে। তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপন করে। পরে সুযোগ বুঝে আবার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য ছিল।

সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় এসটিএফ। গত ৭ ও ৮ মার্চের মধ্যবর্তী রাতে বনগাঁও এলাকা থেকে ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন পটুয়াখালীর বাসিন্দা রাহুল ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) এবং ঢাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন (৩৪)।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা জানা গেছে। হত্যার পর তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর ভারতের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন। সম্প্রতি আবার বাংলাদেশে প্রবেশের উদ্দেশে বনগাঁও এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন।

এ ঘটনায় গ্রেফতার দুইজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার তাদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হলে আদালত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন শহীদ ওসমান হাদী। পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে তার ওপর হামলা হয়। হাদীকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতিকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার পর তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় হাদীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..