মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৫ অপরাহ্ন

মির্জাগঞ্জে চুরির প্রতিবাদ করায় ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে মারধর: থানায় অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :‎
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৭৫১ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

‎পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জে চোরের আতঙ্কে এলাকাবাসী। প্রতিদিন কোন না কোন বাড়ি চুরি হচ্ছে কারো বাড়ি ছাগল, কারো বাড়ি হাঁস, মুরগি নারিকেল, কলা আবার কারো বাড়ি বিধ্যুতের মিটার ও টিউবয়েলের উপরের অংশ। আর এসবই হচ্ছে নেশার টাকা জোগার করার উদ্দেশ্যে।

‎আর প্রতিবাদ করলে তাদেরকে করা হয় মারধর। এমনই ঘটনা পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নে।

‎থানায় অভিযোগ সুত্রে জানা যায় প্রতিদিন রাতে কারো না কারো বাড়ি চুরির ঘটনা ঘটে, এমনই একটি ঘটনা ঘটকের আন্দুয়া (মানসুরাবাদ) গ্রামের এক গরিব কৃষক শাহাজাহানের পালিত ১২ টি কবুতার চুরি করে নেয় পাশের বাড়ির ফয়সাল ও তার ভাই হ্নদয় সহ আরো অনেকে। কবুতারের মালিক শাহজাহান বিষয়টি জানতে পেরে এলাকাবাসির কাছে বিচার দিলে এলাকার পঞ্চায়েত কমিটি খোঁজ নিয়ে জানতে পারে ফয়সাল ও তার ভাই হ্নদয় সহ ৭/৮ জনের একটি গ্রুপ এই কবুতর চুরির সাথে জড়িত।

‎এলাকা বাসি চোরদের পরিবারকে বিচারের জন্য ডাকলে তারা বিচারে না এসে পরের দিন আবার ভাজনা কদমতলা গ্রামের জসিম হাওলাদারের গাছের কলা কেটে রাতের আঁধারে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় কলা সহ হৃদয় এলাকাবাসির হাতে ধরা পরে।

এলাকাবাসি হ্নদয়কে ভাজনা কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দোকানে নিয়ে অত্র এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে চোর চক্রের অভিবাবকদের ডেকে তাদের হাতে তুলে দিয়ে তাদের সনন্তানদের সংশোধন করার জন্য তাগিদ দেন। ঘটনার একদিন পরে সেই চোর চক্রের মুল হোতা সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল তার ভেরিফাই ফেইসবুক পেইজে যারা চোর ধরছে তাদেরকে জীবনে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার ৪ এপ্রিল উক্ত চোর চক্রের মুল হোতা ফয়সাল এর মামা আওয়ামীলীগ কর্মি মির্জগঞ্জের বাসিন্দা শফিক হাওলাদার ফোন করে এলাকার একাদিক ব্যক্তিকে পায়রাকুঞ্জ আসলে জীবনে মেরে ফেলার হুমকি দেন যার অডিও আমাদের কাছে সংরক্ষিত।

পরবর্তীতে ঐ দিন রাত ৭.৩০ থেকে ৮ ঘটিকার সময় চোর চক্রের মুল হোতা ফয়সাল তার মামা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী কর্মী শফিক ও তার ভাইর ছেলে জিলন এবং রাকিব মিলে ২ টা মটর সাইকেল নিয়ে তালতলী সুইজগেট এলাকা থেকে ভাজনাকদমতলার ইসমাইল গাজির ছেলে ওলি গাজিকে মুখে কালো কাপর বেধে তুলে এনে নির্জন স্থানে নিয়ে হাত-পা বেধে নির্মম ভাবে নির্যাতন করে। ওলির আত্বচিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দা বশির মাস্টার এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে পায়রাকুঞ্জে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন করে মির্জাগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। এর কিছুক্ষন পরেই সন্ত্রাসী ফয়সাল তার ভেরিফাই ফেসবুকে আরো একটি পোষ্ট দিয়ে লেখেন মাত্র ১ গেল, বাকি রইল অন্যরা।

‎বিষয়টি নিয়ে ওলি প্রতিবেদককে বলেন ফয়সাল শফিক একটা সন্ত্রাসী বাহিনী এরা আমাকে শুধু শুধু তুলে এনে জীবনে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। আমার অপরাধ আমি ফয়সাল বাহিনীর অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলি। ওলি আরো জানায় আমি থানায় অভিযোগ করেছি বিষয়টি তদন্তধীন রয়েছে। দেখি প্রশাসন কি ব্যবস্থা নেয়।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..