শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
নান্দাইলে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ২০২ হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে মোরেলগঞ্জে দিনমজুর পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ, কোণঠাসা করতে মামলার পর মামলা তাড়াইল সদর ইউপির জনগণকে শ্রমিক দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন নূরে আলম সিদ্দিকী তাড়াইলে মে দিবসে শ্রমজীবীদের শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা সারওয়ার হোসেন লিটন তাড়াইলের সর্বস্তরের জনগণকে মে দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন এনসিপি নেতা মহিউদ্দিন মাসুদ মে দিবসে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানালেন হাফেজ মাওলানা সাইদুল হক সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজে যুব রেড ক্রিসেন্টের ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী, সার্টিফিকেট বিতরণ বরগুনায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু, আহত ১৫ শিক্ষার্থী বাড়তি ৭ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করে প্রতিশ্রুতি পূরণে বদ্ধপরিকর প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি তাড়াইলে অতি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে পাকা ধান, শ্রমিক সংকটে দিশেহারা কৃষক

নান্দাইলে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ২০২ হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ৫৭৫২ বার পঠিত

ময়মনসিংহের নান্দাইলে চলতি বোরো মৌসুমে ৯৩৫ হেক্টর ধান চাষ করা হয়েছে। দেশে টানা ভারি বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ২০২ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং ৭০৫ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতির হয়েছে। এতে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে অপরিকল্পিত পুকুর খনন ও পানি নিষ্কাশনের পথে কৃত্রিম বাঁধ দেওয়ায় ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কয়েক’শ কৃষকের সোনালি স্বপ্ন এখন পানির নিচে। ধান কাটার শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটা যাচ্ছে না বলেও কৃষকরা অভিযোগ তুলেছেন।

উপজেলার আচারগাঁও,নান্দাইল, গাংগাইল, বেতাগৈর, চরবেতাগৈর ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিনে দেখা যায়, ধান রায় কৃষকদের করুণ চিত্র। তলিয়ে যাওয়া আধাপাকা ধান কাটতে কাউকে হাঁটু পানি সমান পানিতে নামতে হচ্ছে, কেউ কেউ বুক পানিতে নেমে, কেউবা নৌকা/ভেলায় করে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। অনেক কৃষককে ফসলের দিকে তাকিয়ে নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, ভারী বর্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাছ ধরার জন্য বিল ও খালে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরার কারণে পানি দ্রুত নদীতে নামতে পারছে না।

এছাড়া ফসলি জমিতে যত্রতত্র ও অপরিকল্পিত পুকুর খনন করায় পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। শিমুলতলা গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, ধান কাটার জন্য শ্রমিক না পাওয়ায় ও আগাম বৃষ্টিতে আমাদের ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে আমাদের সব শেষ হয়ে যায়। ভাটি সাভার গ্রামের আজিজুল হক বলেন, একদিকে ধান কাটার শ্রমিকের সংকট, অন্যদিকে এই সুযোগে কম্বাইন্ড হারভেস্টার চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন।

ফলে দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। পাশাপাশি জলাবদ্ধতার কারণেও পানি নিষ্কাষন না হওয়ায় আমাদের উৎপাদিত ধান ঘরে তুলতে পারছি না। এতে আমাদের ব্যাপক তি হয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নান্দাইল উপজেলায় ৯৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক দুর্যোগে ২০২ হেক্টরের বেশি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নান্দাইল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বাবুল বলেন, ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করা কৃষকরা এখন দিশেহারা। জলাবদ্ধতার জন্য অবৈধ বাঁধ ও অপরিকল্পিত পুকুরই প্রধান দায়ী। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানান।

এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহানা নাজনীন জানান, বিল বা জলাশয়ে পুকুর নির্মাণে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পানি প্রবাহ বন্ধ করে অবৈধভাবে কেউ বাঁধ দিলে বা পুকুর নির্মাণ করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈমা সুলতানা বলেন, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় প্রায় ২০২ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়।

এতে করে কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৪ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা নির্ধারত করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। কৃষকরা যাতে অবশিষ্ট ধান কেটে দ্রুত ঘরে তুলতে পারেন, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে তাদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..