মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বাস ভাড়া বাড়াতে বৈঠকে বিআরটিএ ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী স্পিকারের কাছ থেকে চিঠি পেলে গাজী নজরুলের বিষয়ে ব্যবস্থা: ইসি সচিব ডেঙ্গুতে ২০ দিনে ৯৩ জনের মৃত্যু রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও প্রথম স্ত্রী মাকসুদা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী ভূমি দখলকারীদের কঠিন হুঁশিয়ারি, এক পার্সেন্ট জমিও ছাড় নয় : ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন নান্দাইলে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুশুলী ইউনিয়ন বিএনপির মিছিল ও আলোচনা সভা মোরেলগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তাফা হাওলাদারকে বিদায়ী সংবর্ধনা আদমদীঘিতে বাবার চেয়ে মেয়ের ১০৪ বছর বয়স বেশি!

গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে টেন্ডারে অনিয়ম, ভুয়া বিল-ভাউচার ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ৫৮২৯ বার পঠিত
আশ্রাফুল হকের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, টেন্ডারে অনিয়ম, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুল হকের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, টেন্ডারে অনিয়ম, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, আগাম কমিশন নেওয়া এবং নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় বিজয় দিবস উপলক্ষে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল কাজের বিপরীতে প্রায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই কাজ নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিয়ে নিম্নমানের কাজ করিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে।

এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনকে জুলাই জাদুঘরে রূপান্তরের সংস্কারকাজে ইলেকট্রিক্যাল ও এস্টানাল কাজের জন্য বরাদ্দ হওয়া প্রায় ৩৪ কোটি টাকার প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গোপনে প্রাক্কলন (স্টিমেট) সরবরাহ করে কমিশনের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, “সুবরা কনস্ট্রাকশন” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না এবং আগে থেকেই নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই সুবিধা তৈরি করা হয়েছিল।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ই/এম ঢাকা জোনে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাঁদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট ‘পারসেন্টেজ’ না মানলে অনেক ঠিকাদার কাজ পান না, এমনকি কর্মকর্তাদের বদলির ভয়ও দেখানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মিরপুরের পাইকপাড়া সরকারি কলোনি, আজিমপুর সরকারি কলোনির দ্বিতীয় পর্যায় এবং মতিঝিল সরকারি আবাসন প্রকল্পের ইলেকট্রিফিকেশন ও এস্টানাল কাজেও অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে কমিশন নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি প্রকল্পের মোট ব্যয়ের পরিমাণ শত শত কোটি টাকা বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

এ ছাড়া আশ্রাফুল হকের ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তাঁদের দাবি, রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাঁর উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাট রয়েছে। নোয়াখালীর হাতিয়ায় এবং ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নামে জমি, ফ্ল্যাট ও ব্যাংক আমানত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে কোনো সরকারি নথি বা দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসেনি।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও ক্ষমতার প্রভাবের কারণে অনেক সৎ কর্মকর্তা চাপে রয়েছেন। বিষয়গুলো নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

এদিকে স্থানীয় ঠিকাদার, পেশাজীবী ও সচেতন নাগরিকদের কয়েকজন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে আশ্রাফুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..