বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ন

লন্ডন বিএনপির এক আলোকিত অধ্যায় শেখ মোঃ ইয়াওর

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
  • ৫৭৫৯ বার পঠিত

যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ মোঃ ইয়াওর প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থার প্রতীক, এক আলোকিত অধ্যায়।

যুক্তরাজ্য বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজে একজন প্রতিষ্ঠিত আলোকিত ব্যক্তিত্ব হলেন শেখ মোঃ ইয়াওর।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেও তিনি নিজ দেশ, এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, সততা, এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি আজ যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে সুপরিচিত।

শেখ মোঃ ইয়াওর ১৯৫৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলায় একটি ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিকভাবেই তিনি মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা লাভ করেন।

১৯৭৩ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। ভাষা, সংস্কৃতি এবং পরিবেশের ভিন্নতার মধ্যেও তিনি নিজের যোগ্যতা, অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে লন্ডন সমাজে প্রতিষ্ঠিত হন।

শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির একজন পরিচিত আস্থাশীল ব্যক্তি হিসেবে স্থান করে নেন।

লন্ডনে বসবাসকারী বাংলাদেশী প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সহ অন্যান্য সমস্যা নিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় কাজ করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন,প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক আন্দোলন সহ প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

বিএনপি লন্ডন রাজনৈতিক অঙ্গনেও শেখ মোঃ ইয়াওর একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৯৭ সালে জিয়া পরিষদের প্রথম কমিটি গঠিত হলে তিনি আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সংগঠনটির নেতৃত্ব দেন।
তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী আদর্শ প্রচার, সাংগঠনিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে দীর্ঘ সময়। এছাড়াও তিনি ১৯৯১ সালে লন্ডন মহানগর বিএনপির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৮ সালে যুক্তরাজ্য বিএনপির কো-অপ্ট সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ওয়েস্ট লন্ডন বিএনপির সভাপতি হিসেবে নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ধাপে তিনি সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি, কর্মীদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার জন্য কাজ করেছেন।

শেখ মোঃ ইয়াওর কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন। তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষানুরাগীও বটে। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয় —এই বিশ্বাস থেকে তিনি ১৯৮২ সালে তাঁর পৈতৃক জমিতে কুবাজপুর শাহজালাল (রহ.) সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এলাকার শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বিত সুযোগ প্রদান করে আসছে। এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ায় আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় তাঁর নাম।

মানবকল্যাণমূলক নানাবিধ কাজকে গতিশীল করতে তিনি এসই ফাউন্ডেশন ইউকে প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বহু বছর। বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আর্থিক সংকট কিংবা মানবিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে এই ফাউন্ডেশন।

অপ- রাজনীতি, শিক্ষা, সামাজিক অবক্ষয় এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তাঁর লেখালেখি সচেতন মহলে বেশ আলোচিত এবং সমাদৃত।

শেখ মোঃ ইয়াওরের প্রমাণ করেছেন প্রবাস জীবনে থেকেও নিজের দেশ, সমাজ এবং মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল এবং আন্তরিক হওয়া যায়। তাঁর কর্মময় জীবন নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবসেবা এবং নেতৃত্বের শিক্ষা দেয়। শেখ মোঃ ইয়াওর প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থার আলোকিত অধ্যায়।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..