গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় পানি জমেছে।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর রামপুরা, কাকরাইল, পল্টন, গ্রিনরোড, তেজতুরী বাজার, পান্থপথ, মণিপুর, ধানমন্ডি ২৭, ধানমন্ডি ৩২, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি দেখা গেছে।
বৃষ্টিতে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শেওড়াপাড়া শাখা-৩, এর সামনের প্রধান সড়ক ও আশপাশের অলিগলি পানিতে ডুবে গেছে। এ পরিস্থিতিতে সকালে শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তারা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকসহ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরীক্ষা স্থগিত করার অনুরোধ জানালে শেওড়াপাড়া শাখা তিন এসব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
বৃষ্টির কারণে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বেইলি রোড শাখার নবম শ্রেণির অর্ধবার্ষিকী, দশম শ্রেণির প্রাকনির্বাচনী ও একাদশ শ্রেণির ব্যবহারিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
ওয়াইডব্লিউসিএ উচ্চমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের গ্রিনরোড শাখার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিকুল নেওয়াজ কবীর বলেন, ‘রাজধানীতে সর্বশেষ ছয় ঘণ্টায় অর্থাৎ গতকাল রাত ১২টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। চলতি মাসে এতটা বৃষ্টির রাজধানীতে হয়নি।’
ভারী বৃষ্টিতে ডুবলো রাজধানী ঢাকা। রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এমন বৃষ্টিপাত আরও দুদিন অব্যাহত থাকার আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার (১১ জুলাই) রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় রাজধানীতে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড করা হয়েছে।
টানা ভারি বর্ষণের ফলে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের শুরুতেই স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানীর স্বাভাবিক জনজীবন। মূল সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে থইথই করছে পানি।
বিশেষ করে বিমানবন্দর সড়ক, বনানী, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর, নিউমার্কেট, গ্রিন রোড, মতিঝিল এবং মিরপুরের কাজীপাড়াসহ অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল ও মূল সড়ক হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়।
পানি কোথাও কোথাও সড়কে কোমরসহ দেখা গেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দোকানপাট-বাড়িঘরের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন মানুষজন।
রোববার অফিসগামী মানুষের দুর্দশাকে দেখে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হয়েছে। সড়কের দুপাশেই যানজট। অনেককে বৃষ্টির মাঝেই ছাতা হাতে হেঁটে অফিস যেতে দেখা গেছে।