নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তারাবো পৌরসভার একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রনি ডাইং (কম্পোজিট)-এর বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণ, সরকারি জায়গা দখল, অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য নিঃসরণ এবং পরিবেশগত বিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের অভিযোগের পর সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ মারজানুর রহমান।
এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষিপ্ত হয়ে গত বছরে আগস্ট মাসে ডাইং কারখানার বর্জ্য পানি ফেলার পাইপ বন্ধ করে দেয়। এসবের কোন কিছুতেই যেন কারখানাটির দূষণ ও অনিয়ম বন্ধ করতে পারেনি।
এই ডাইং কারখানার ইটিভি থাকলেও ইটিপি ব্যবহার না করে নিজেদের ডাইংয়ের বিষাক্ত পানি একটি পাইপের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষিজমি ও খালে ফেলা হয়। খাল থেকেই পুরো এলাকায় ডাইংয়ের পানি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে গত কয়েকমাসে কয়েকদিন পরপর টানা বৃষ্টির পানি ও ডাইং কারখানার পানিতে এ জলাবদ্ধতা প্রকোপ আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা স্কুল শিক্ষিকা রাহিমা বেগম রেনু বলেন, ডাইং কারখানার বিষাক্ত পানির লাইগা আমাগো এলাকার রাস্তাঘাট ও বাড়িতে পানিতে তলি আছে। আমরা এলাকার মানুষ ডাইং কারখানার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চাইলে আমাগো হুমকি ধামকি দেয়া হয়। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি ডাইং কারখানা দূষিত বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা হউক।
স্থানীয় বাসিন্দা রিপন মিয়া জানান, কারখানা থেকে নির্গত অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য আশপাশের খাল ও জলাশয়ে মিশে পানি দূষিত করছে। এতে জলাশয়ে মাছ মারা যাচ্ছে, কৃষিজমিতে দূষিত পানি জমে থাকায় কৃষকরা ফসল উৎপাদন করতে পারছে না। পাশাপাশি কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে আশপাশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন।
এলাকার গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করেন, পরিবেশগত নিয়ম না মেনেই কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ জানান, রনি ডাইংয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। “সদর দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অচিরেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ হোসেন বলেন,শিল্পকারখানার বর্জ্য যথাযথভাবে পরিশোধন না করে পরিবেশে ফেললে শুধু জলজ প্রাণী নয়, কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। তাই জরিমানার পাশাপাশি পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
এ ব্যাপারে রনি নিট কম্পোজিট ডাইং কারখানার জেনারেল ম্যানেজার নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা ইপিটি ব্যবহার করি নিয়মিত। আমরা কারখানার পানি পৌরসভার ড্রেনে ফেলার ব্যবস্থা করি। টানা বৃষ্টির কারণে ড্রেনের পানি বেড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে । এখানে তো জিএম ডাইং এর পানিও আছে শুধু আমাদের কারখানার পানি না। এলাকাবাসীর অভিযোগ সঠিক নয়। সরকারি জায়গা যেটি রয়েছে ভিতর দিয়ে আমরা পানি চলাচলের ক্যানেল করে দিয়েছি।
এ ব্যাপারে উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকাতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ করছে। রনি ডাইনের বিষাক্ত বর্জ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে জরিমানা করা হয়েছে।