মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বেতাগীতে পৃথক ঘটনায় গৃহবধূ ও যুবকের মৃত্যু কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠাই জনগণের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী মির্জাগঞ্জে মাছের ঘের থেকে ১০ পিস ইয়াবাসহ ২ জন গ্রেফতার, মামলা দায়ের দেশে আরো একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে ২০২৪ সালে পরিদর্শন কর্মকর্তার মন্তব্যের পরও ২০২৫–২৬ সালের হাজিরা নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে থুতু নিক্ষেপ ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড একই অভিযোগে বারবার জরিমানা, তবুও বদলায়নি রহমানিয়া পাম্প ঢাকায় হচ্ছে আরেকটি মেট্রোরেল, একনেকে উঠছে প্রকল্প স্থানীয় সরকার নির্বাচন ১২ নভেম্বর শুরু: ইসি

শেষ দেখা হলো না ছেলের সাথে: জেলখানায় যাওয়ার পথে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন বাবা

(বরগুনা) প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৮৩০ বার পঠিত
হানিফ মিয়া ...................................................ছবি : সংগৃহীত

ছেলের সাথে শেষ দেখা হলো না হতভাগা পিতা অটোচালক হানিফের। জেলখানায় আটক ছেলেকে একনজর দেখার আকুলতা নিয়ে যাওয়ার পথে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া (হার্ট অ্যাটাক) বন্ধ হয়ে নিজের অটোতে বসেই পথেই মারা গেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের সোনার বাংলা বাজার সংলগ্ন এলাকায়। মৃত হানিফ মিয়া বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হোসনাবাদ গ্রামের হানিফের ছেলে বেল্লাল হোসেন মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বরগুনা জেলখানায় আটক রয়েছেন। বুকের ভেতর সন্তানকে কাছে পাওয়ার আকুলতা আর এক ফোঁটা স্নেহের টানে বৃহস্পতিবার সকালে নিজের চালিত অটোতে করেই বরগুনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন বাবা হানিফ। উদ্দেশ্য ছিল জেলা কারাগারে গিয়ে ছেলের সাথে দেখা করবেন, খোঁজখবর নেবেন এবং সান্ত্বনা দেবেন। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস, গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই মাঝপথেই ঘটে গেল এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয়।

পথিমধ্যে হোসনাবাদ ইউনিয়নের সোনার বাংলা বাজারের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই তীব্র শারীরিক অস্বস্তি ও বুকে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করেন হানিফ মিয়া। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (হার্ট অ্যাটাক) ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছে দিলে স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং মোকামিয়ায় পল্লী চিকিৎসক ফেরদৌস’র চেম্বারে নিয়ে আসলে পল্লী চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষনা করেন। পরে তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন। ছেলের সাথে শেষবারের মতো দেখা করার আকুলতা নিয়ে ঘর থেকে বের হওয়া একজন পিতার এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সন্তানের অপরাধ বা কারাবাসের কষ্ট একজন পিতাকে কতটা তিলে তিলে শেষ করে দিতে পারে, হানিফ মিয়ার এই আকস্মিক মৃত্যু যেন তারই এক নির্মম বাস্তব উদাহরণ। জীবন্ত সন্তানের সাথে শেষ দেখাটুকুও হলো না এক হতভাগ্য বাবার। এই হৃদয়বিদারক মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের মাতম চলছে। শোকার্ত পরিবার ও স্বজনদের সান্ত¡না দেওয়ার মতো ভাষা যেন খুঁজে পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।
পল্লী চিকিৎসক মো. ফোরদৌস বলেন, আমার চেম্বারে আনার আগেই তিনি মারা গেছেন। চেম্বারে আনার পর বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছি। হৃদ যন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

মৃত হানিফের স্বজন অধ্যক্ষ মো. শাহীন বললেন, তিনি অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। ছেলেকে একনজর দেখতে এবং তার খোঁজখবর নিতেই তিনি সকালে অটো নিয়ে বরগুনার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। কিন্তু পথেই যে তাঁর এমন পরিণতি হবে, তা আমরা কেউ কল্পনাও করতে পারিনি।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..