ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গেণভোটকে কেন্দ্র করে চারদিনের ছুটির ফাঁদে দেশ। ভোটাধিকার প্রয়োগের উদ্দেশে বেশিরভাগ মানুষ রাজধানী ছেড়েছেন। ফলে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে যানজটের শহর ঢাকা। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। নির্বাচনের প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারেও। বেশিরভাগ দোকান বন্ধ থাকায় সবজি, মাছ ও মুরগির দাম বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। বিক্রেতারা জানান, ভোটের কারণে অধিকাংশ ব্যবসায়ী গ্রামের বাড়িতে গেছেন, সরবরাহ কমেছে। তাই কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।
বেশি প্রভাব পড়েছে কাঁচা বাজারে। বেশির ভাগ সবজির দাম বেড়েছে। নতুন আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। এ ছাড়া মান ও জাতভেদে শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শালগম ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বেগুন ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটির দাম কিছুটা বেশি; প্রতি কেজি কিনতে গুনতে হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। গত সপ্তাহের তুলনায় টমেটোর দাম আরও কমেছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৬ টাকায়। আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ এবং বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় কেনা যাচ্ছে। মুলার কেজি কেনা যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে। বাজারে পেঁয়াজের দামও স্থিতিশীল রয়েছে। মাত্রই মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসা শুরু করেছে, এ কারণে দামও সহনীয়। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। গত তিন দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে। তাতে এক কেজি কাঁচা মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। তিনদিন আগে প্রতি কেজি মরিচ ১০০–১২০ টাকায় কেনা যেত।
কয়েক দিন ধরেই বাজারে লেবুর দাম চড়া। বিক্রেতারা জানান, লেবুর মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে এবং দাম বেড়েছে। পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই বাজারে লেবুর দাম চড়া রয়েছে। ফলে রোজায় লেবুর দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানান বিক্রেতারা।
কয়েক দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে ৮০ টাকার নিচে কোনো লেবু (হালি) বিক্রি হচ্ছে না। ধরনভেদে প্রতি হালি লেবু ৮০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। তিন সপ্তাহ আগে লেবুর হালি ছিল ৩০–৫০ টাকা।
তবে গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহে দাম ছিল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। একইভাবে দর বেড়েছে সোনালি জাতের মুরগিরও। এ জাতের মুরগি কিনতে ক্রেতাকে কেজিতে গুনতে হচ্ছে ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা। গত সপ্তাহে ছিল ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা।
এদিকে মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৪৬০ টাকা, বাইন ৬০০ টাকা, শিং ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং টাকি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম তুলনামূলক বেশি। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।
রোজার আগে চিনি, ছোলা ও পেঁয়াজের দাম কম হলেও ভোজ্যতেলের দাম তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ এবং খোলা সয়াবিন ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি লিটার খোলা পামওয়েল বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬২ টাকা দরে। সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্যমতে, এক বছরের ব্যবধানে সয়াবিন তেলের দাম তিন থেকে ১০ শতাংশ এবং পামওয়েলের দাম পাঁচ শতাংশ বেড়েছে।
এছাড়া মানভেদে প্রতিকেজি আদা ও রসুন ১৪০-২২০ টাকায়, চিনি ৯৮-১০৫ টাকায়, পেঁয়াজ ৪০-৫০ টাকায়, ছোলা ৮০-১০০ টাকায়। বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। মুদি পণ্যের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে সরবরাহকারীদের (ডিলার) কাছ থেকে চাহিদামতো সয়াবিন তেল পাচ্ছেন না খুচরা বিক্রেতারা। তবে দাম বাড়েনি। বাজারে ছোট দানার মসুর ডাল ১৬০–১৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তিন সপ্তাহ আগে এ দাম কেজিতে ২০ টাকা কম ছিল। অবশ্য মোটা দানার মসুরের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ৮৫–৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বেড়েছে লেবুরও।
গরুর মাংসের কেজি ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা। গরুর মাংসের বিক্রেতা জানান, আগে মানুষ সলিড মাংস নিতে পারত, কিন্তু এখন দাম বাড়ায় মাথার মাংসের সঙ্গে মিলিয়ে বিক্রি করা লাগে। আর আগের মতো ক্রেতাও নেই। দোকানে প্রায় অলস সময় পার করা লাগে।