শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন

‘ফলাফলকে স্বীকৃতি দিচ্ছি, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি’

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৭৫৩ বার পঠিত
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান--------------------------ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এককভাবে ৬৬ এবং জোটগত ৭৭ এমপি নিয়ে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান। একইসঙ্গে নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দিয়ে আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের কথাও বলেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে এক পোস্টে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, শুরু থেকে আমরা একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতিতে এখনো অটল। আমরা সামগ্রিক ফলাফলকে স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

জামায়াত আমীর লিখেছেন, বিগত মাসগুলোতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, সে অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অনেকে নিজের সময়, শক্তি ও বিশ্বাস উৎসর্গ করেছেন। অনেকে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে ভয়ভীতি ও

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি জানি, আপনাদের মধ্যে অনেকে আজ ব্যথিত এবং গভীরভাবে হতাশ। এটা স্বাভাবিক। যখন আপনি কোনো আদর্শের পেছনে নিজের হৃদয় ঢেলে দেন, তখন তার ফলাফল আপনাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই— আপনাদের প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি। ৭৭টি আসন নিয়ে আমরা সংসদে আমাদের উপস্থিতিকে প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি করেছি এবং আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম শক্তিশালী বিরোধী ব্লকে পরিণত হয়েছি।

ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে রাজনীতির ভাগ্য পরিবর্তনশীল। ২০০৮ সালে বিএনপি মাত্র ৩০টি আসনে নেমে এসেছিল, যেখান থেকে দীর্ঘ ১৮ বছরের পথ পাড়ি দিয়ে ২০২৬ সালে তারা সরকার গঠন করছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতি একটি দীর্ঘ পথ। আমাদের পথ এখন পরিষ্কার— মানুষের আস্থা অর্জন করা, ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দায়িত্বশীলভাবে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেয়া।

জামায়াত আমির আরও লেখেন, যেকোনো প্রকৃত গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা শুধু নির্বাচনী প্রচারণায় নয়, বরং জনগণের রায়কে কীভাবে গ্রহণ করি তার ওপর নির্ভর করে। শুরু থেকেই আমরা একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম, সে প্রতিশ্রুতিতে এখনো অটল। আমরা সামগ্রিক ফলাফলকে স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

আমাদের আন্দোলন কখনোই কেবল একটি নির্বাচনের জন্য ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ছিল গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করা, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা এবং একটি ন্যায়বিচারপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য। আমরা নীতিবান, দায়িত্বশীল এবং শান্তিপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করব; একই সঙ্গে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করে জাতীয় অগ্রগতিতে গঠনমূলক অবদান রাখব। নীতিভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অবিচল থাকবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..