রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০২:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী আর নেই তালতলীতে কাবিখা প্রকল্পে অনিয়ম: চাল বিক্রি, ভেকু দিয়ে রাস্তা নির্মাণ মির্জাগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন মোরেলগঞ্জে গভীর রাতে অগ্নিসংযোগ দুই ঘর ভস্মীভূত, ক্ষতি প্রায় ২৫ লাখ টাকা জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার-তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী তাড়াইলে জমি বিরোধে আদালতে মামাল: এক আসামি গ্রেফতার মাছ-মুরগির দাম চড়া, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে গরু-খাসি আয়নাঘরের রূপকার সাবেক ডিজিএফআই প্রধান মামুন খালেদের যত অপকর্ম পদ্মা নদীতে বাসডুবি, তৃতীয় দিনের মতো চলছে উদ্ধার অভিযান তাড়াইলে বাস টিকেট কাউন্টারে উপচে পড়া ভিড়

মাছ-মুরগির দাম চড়া, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে গরু-খাসি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৫৭৫৪ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

মাহে রমজান শেষে সারাদেশে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদ উল ফিতর। পরিবার, আত্বীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। এখনও রাজধানীর অধিকাংশ দোকান-পাট বন্ধ রয়েছে। কঁচাবাজারও পুরোপুরি চালু হয়নি। রয়েছে সরবরাহের ঘাটতি। এ সুযোগে বেড়ে গেছে মাছ, মাংস ও মুরগির দাম। সবজির দাম রকমভেদে কমবেশি আছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

পুরো রমজান মাসে বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়ে গেলেও ঈদের পূর্বে কমে আসে। ঠিক তার উল্টো চিত্র মুরগির বাজারে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বাজারে মুরগির দাম কেজিতে ১০০ টাকারও বেশি বেড়েছে। মুরগির পাশাপাশি খাসির মাংস ও কয়েক ধরনের মাছের দাম চড়া। সরবরাহ–সংকট কাটেনি বোতলজাত সয়াবিন তেলের। তবে সবজির দাম ঈদের আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে।

২১ মার্চ সারা দেশে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়। ঈদকে সামনে রেখে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট ৭ দিন সাধারণ ছুটি ছিল। ছুটি শেষে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) অফিস খুললেও এখনো অনেক পরিবার ঢাকায় ফেরেনি। কারণ, ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি অনেক অফিসে আবার ছুটি রয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে।

ঈদের পাঁচ দিন পরও রাজধানীর বাজারগুলো ছিল অনেকটাই ফাঁকা। সকালে একাধিক বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় অর্ধেক দোকানপাট বন্ধ। যেসব দোকান খোলা রয়েছে, সেখানকার বিক্রেতারা জানান, এখনো অনেক মানুষ ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরেননি। তাই বাজারে বেচাকেনা কম। ক্রেতা নেই বলে বাজারে পণ্যের সরবরাহও তুলনামূলক কম। সে সঙ্গে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।

ঈদের এক দিন আগে ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৪০-৩৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তবে ঈদের তৃতীয় দিন থেকে সোনালির দাম কেজিতে আরও ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। অর্থাৎ ঈদের আগের চেয়েও এখন সোনালির মুরগির দাম চড়া। বর্তমানে ধরনভেদে প্রতি কেজি সোনালি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০-৪০০ টাকায়। চলতি বছর রোজা শুরু থেকে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সোনালি মুরগির কেজি ছিল ২৭০ থেকে ৩২০ টাকা। সে হিসেবে বর্তমানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বাড়তি।

অন্যদিকে, রাজধানীতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঈদের আগে চাঁদরাতে ব্রয়লারের দাম ওঠে ২৩০-২৪০ টাকায়। এরপর সেই দাম কমেছে। কিন্তু সেটি রোজার আগের তুলনায় অনেক বেশি। রোজা শুরুর আগে বাজারে এক কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০ টাকায় কেনা যেত। সে হিসেবে বর্তমানে ব্রয়লারের দাম কেজিতে ৫০-৬০ টাকা বেশি।

তবে এখন বাজারে ফার্মের ডিমের দাম খানিকটা কমেছে। প্রতি ডজন ডিম বাজারভেদে ১০৫ টাকা থেকে ১১০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। যা ঈদের ছুটির আগে ছিল ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।

ঈদের সময় গরুর মাংসের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়; সঙ্গে দামও বাড়ে। এ বছর ঈদের আগে গরুর মাংসের কেজি ছিল ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা। অবশ্য কোনো কোনো বাজারে এর চেয়েও কিছুটা বাড়তি দামে গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে। তবে এখন কেজিতে ১০০ টাকার মতো দাম কমেছে। আজ বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৭৫০-৮০০ টাকায়।

এদিকে, বাড়তি রয়েছে খাসির দাম। রোজার শুরুতে বাজারে প্রতি কেজি খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকায় কেনা যেত। ঈদের আগে এ দাম কেজিতে ১৫০-২০০ টাকা বেড়ে যায়। ঈদের পরে দাম সামান্য কমলেও তা এখনো চড়া। এদিন এক কেজি খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ঈদের পর বাজারে কয়েক ধরনের মাছের দামেও বাড়তি প্রবণতা দেখা গেছে। বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ ৩৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সাধারণ সময়ের তুলনায় এ দাম কেজিতে ৩০-৫০ টাকা বেশি। পাশাপাশি তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা প্রভৃতি মাছের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বাড়তি।

ঈদের ছুটিতে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। ঈদের আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৪০ টাকার মধ্যে। সে হিসাবে কেজিতে দাম বেড়েছে অন্তত ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের সময়ে সরবরাহ কম থাকার কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

এছাড়া সবজির বাজারে কিছু কিছু পণ্যের দাম আগের মতো থাকলেও বেড়েছেও কোনো কোনোটির। এর মধ্যে ঈদের ছুটির আগে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৯০ টাকায়। যা এখন মান ও জাতভেদে ৭০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

ঈদের ছুটির আগে প্রতি কেজি শসার দাম ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে কিছুটা বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে টমেটোর দাম। ৩৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়া টমেটো এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এছাড়া প্রতি কেজি শিম ৪৫ থেকে ৬০ টাকা, ছোট আকারের প্রতিটি মিষ্টি কুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ধুন্দল, ঝিঙ্গা চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ২৫ টাকা হয়েছে। আর এক হালি লেবু বিক্রি হয়েছে ৪০-৬০ টাকায়।

এদিকে ভোজ্য তেলের বাজারে আবারও নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ রীতিমতো বন্ধ রেখেছে। এ কারণে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রেতারা কয়েক দোকান ঘুরেও এক লিটার বা দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতে পারছে না। সংকটের সুযোগে মুদি দোকানদাররা খোলা সয়াবিন তেল বোতলে ভরে বেশি দামে বিক্রি করছে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..