বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা খাল খননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাল খননের নামে রাতের আঁধারে ভরা খাল খনন করা হচ্ছে এবং খালের দুই পাড়ের হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী অফিস কালিপুরা খালের প্রায় ২ হাজার ৫শ’ মিটার খননের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। প্রায় ২০ লাখ টাকার এ কাজ পান কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ কায়েসুর রহমান ফকু। গত ২০ মে খনন কাজ শুরু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী সেচ দিয়ে খাল খননের কথা থাকলেও তা না করে ভরা খালেই দায়সারাভাবে কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া ভেকু মেশিন দিয়ে খালের দুই পাড়ের অসংখ্য গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে রাতের আঁধারেও খনন কাজ চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
এ অনিয়মের প্রতিবাদে মঙ্গলবার স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাদের দাবি, কৃষক ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সরকার খাল খনন করলেও ঠিকাদারের অনিয়মে প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাবে না। বরং কোটি টাকার গাছ কেটে পরিবেশ ও স্থানীয়দের ক্ষতি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা আব্দুল জব্বার, নাদিম আহম্মেদ, রাসেল ও খলিল অভিযোগ করে বলেন, খাল কাটার নামে সাবেক চেয়ারম্যান হরিলুট করছেন। সেচ না দিয়েই রাতের আঁধারে খাল খনন করা হচ্ছে। এতে কৃষকদের কোনো উপকার হবে না।
স্থানীয় নারী মুনসুরা বলেন, মোর কয়ডা গাছ আলহে হেইয়া মেশিন দিয়া কাইটা ফালাইছে। রাইতে ভরা খাল কাডে। এইরহম খাল কাডা মোর বয়সে দেহি নাই।
কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ আব্দুল আউয়াল ও তাসলিমা বেগম বলেন, খাল খননের নামে দুর্নীতির মহা আখড়া তৈরি হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ কায়েসুর রহমান ফকু বলেন, উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের পরিকল্পনা অনুযায়ীই কাজ করা হচ্ছে। রাতের আঁধারে খাল খননের অভিযোগ মিথ্যা। তবে ভেকু মেশিন চলার সময় দুই-একটি গাছ কাটা পড়েছে।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইদ্রিস আলী বলেন, সেচ ছাড়া রাতে খাল খননের খবর পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সঠিকভাবে কাজ না হওয়ায় ওই খালের খনন আর করা হবে না।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রকৌশলীকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।