নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভায় তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকট । গত সাত দিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কয়েক হাজার বাসিন্দা।
এলাকাবাসী জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে পৌরসভার যাত্রামুড়া, বরাবর, খাদুনসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি উত্তোলনের পাম্পগুলি বন্ধ রাখায়। এসব এলাকার পানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে দৈনন্দিন কাজকর্ম ও গোসল তো দূরের কথা, খাওয়ার পানিটুকু না পেয়ে হাহাকার করছেন তারা।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারাবো পৌরসভা একটি শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা। এখানে বিভিন্ন মিলকারখানার শ্রমিকরা বেশি বসবাস করেন। দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষের সংখ্যাই বেশি। পানির বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেককে চড়া দামে খাবার পানি কিনে খেতে হচ্ছে। তবে দীর্ঘ সাত দিন ধরে পানি না থাকায় খেটে খাওয়া সাধারণ শ্রমিকদের পক্ষে প্রতিদিন পানি কিনে খাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পানির দাবিতে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা পৌরসভার দ্বারে দ্বারে ধরণা দিয়েও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় নাবিল টেক্সটাইলে কর্মরত শ্রমিক সাজ্জাদ হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের দিনে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। তার ওপর প্রতিদিন পানি কিনে খাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না। সাত দিন ধরে গোসল নাই, খাওয়ার পানি নাই। পৌরসভায় গিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।”
তারাবো পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, সাত দিনের মাত্র সংকট তেমন কিছু নয়, সংকট সমাধান চেষ্টা করা হচ্ছে।অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে পাম্প চালানো যাচ্ছে না এবং পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকার বাসিন্দারা জানান লোডশেডিংয়ের সমস্যা থাকলেও পানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও রেশনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্তত নির্দিষ্ট কিছু সময়ে পানি সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব। তা না করে হঠাৎ করে পুরো সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয়। এতে একদিকে যেমন সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রেশনিং পদ্ধতিতে হলেও দ্রুত পানি সরবরাহ চালু করার এবং সংকট নিরসনে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।