বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি। দলটির নেতারা দাবি করেছেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছিল না বলেও দাবি করেন তারা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা ১১টায় মোরেলগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শহিদুল হক বাবুল ও পৌর বিএনপির সভাপতি শিকদার ফরিদুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বিএনপি নেতারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও ইউনিয়নভিত্তিক সুপারভাইজার নিয়োগে দলীয় প্রভাব খাটানো হয়েছে—জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ করা হলেও তা সঠিক নয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য ও মেধাবী আবেদনকারীদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
তাদের অভিযোগ, সোমবার রাতে মোরেলগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নেতারা বিএনপিকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি নেতারা জামায়াতের উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তি ও প্রমাণ প্রকাশের আহ্বান জানান।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ তোলে উপজেলা ও পৌর জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াতের উপজেলা আমীর ও নায়েবে আমীরের স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যে উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাস্টার মো. মনিরুজ্জামান অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও ইউনিয়নভিত্তিক সুপারভাইজার নিয়োগে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা অনুসরণ করা হয়নি। রাজনৈতিক বিবেচনায় লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম নিয়োগের ক্ষেত্রেও দলীয় প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করে জামায়াত। এসব নিয়োগে যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।
এদিকে বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীমকে নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ আব্দুল আলীমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়ে দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয় প্রভাব বা অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও প্রশাসনের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম মোল্লা, মতিউর রহমান বাচ্চু, ফিরোজ শাহ তালুকদার, ফারুক হোসেন সামাদ, কৃষক দল নেতা মশিউর রহমান শফিকসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।