রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
রাজধানীর বাড্ডায় ৭৬ বয়সী শাশুড়িকে পিটিয়ে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা: নেপথ্যের নায়ক বাড্ডা থানার এসআই হানিফ! কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকান্ডে নিহত তিনজন আমতলীর একই পরিবারের, চারজন তাদের স্বজন সবুজ বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮৭২ ২০২৬–২০২৭ ওয়ার্ল্ড কাপ চ্যাম্পিয়নশিপের খেলোয়াড় বাছাই উপলক্ষে বাফুফে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত দুর্গোৎসব: আজ ও কাল মহাসপ্তমী দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি আদমদীঘিতে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বুশরা, বৈশাখীসহ ১৩ চালকলকে শোকজ- সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যার বিচার দাবিতে নান্দাইলে মানববন্ধন হরিরামপুরে বহিষ্কৃত যুবদল নেতার স্ত্রী পেলেন সার ডিলার

সবুজ বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫৭৫৫ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে এই দেশ তোমরাই পরিচালনা করবে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ এখন থেকেই শুরু করতে হবে।’

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত জনবহুল একটি দেশ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। এত মানুষের শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন হলেও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘তোমরা যখন কোনো কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাঠে নেমে পরিচ্ছন্নতার কাজ করো, তখন খুব দ্রুত একটি জায়গা পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু শুধু নির্দিষ্ট কর্মসূচির মধ্যে এই কাজ সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নিজেদের উদ্যোগেও কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।’

পরিচ্ছন্ন পরিবেশের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি পরিবার ও তার আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার থাকলে সেই পরিবারের সদস্যদের সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অন্যদিকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নানা রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়ায়।

তিনি বলেন, ‘এত বিপুলসংখ্যক মানুষ যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে সবাইকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা করা কঠিন। তাই আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে মানুষকে সুস্থ রাখা। আর মানুষকে সুস্থ রাখতে হলে পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর ডেঙ্গুতে অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হচ্ছে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা।

তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজের বাসাবাড়ি, স্কুল-কলেজ, কর্মস্থল কিংবা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশেষ করে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

রাস্তা, খাল, নদী ও জলাশয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলার প্রবণতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ময়লা জমে পরিবেশ দূষিত হয় এবং রোগজীবাণু ও মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।

এ ক্ষেত্রে বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ রাস্তায় ময়লা ফেললে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করবে। প্রয়োজনে তাকে সহযোগিতা করবে, যাতে ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হয়। মনে রাখতে হবে, তোমরা শুধু নিজের জন্য নয়, সবার স্বার্থে কাজ করছ।’

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান প্রায়ই ওপরের দিকে থাকে, যা অত্যন্ত বিব্রতকর। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে।

বৃক্ষরোপণে নিজের অতীত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠনের মাধ্যমে ২০০৪-০৫ সালের দিকে শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ৮০ হাজার নিমগাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এখন তোমাদের আমাকে ছাড়িয়ে যেতে হবে। তোমরা আরও বেশি গাছ লাগাবে। ইনশাআল্লাহ, তোমরা পারবে।’

এ সময় সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে নিমগাছ রোপণের ইতিহাসও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একসময় আরাফাতের ময়দান ছিল প্রায় বৃক্ষশূন্য। পরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেখানে নিমগাছের চারা পাঠান। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের পরামর্শে সৌদি আরবের আবহাওয়ার উপযোগী হিসেবে নিমগাছ নির্বাচন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেখানে নিমগাছের বিস্তার ঘটে। সেটি এখন ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত।

পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে জাপানের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানের রাস্তাঘাটে খুব কম ময়লা-আবর্জনা দেখা যায়। এর পেছনে শুধু পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নয়, বরং মানুষের ময়লা না ফেলার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয় পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ ও পানির দূষণ রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। যেখানে-সেখানে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। ভবিষ্যৎ তোমাদের। এই দেশ তোমরাই পরিচালনা করবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..