বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন

কুয়াকাটা মহিলা দলের নেত্রীর বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ, কারণ দর্শানোর নোটিশ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :‎
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫৭৫২ বার পঠিত
ছবি : সংগৃহীত

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির কার্যালয়ে দলীয় কার্যক্রম চলাকালে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কুয়াকাটা পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের পর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল পটুয়াখালী জেলা শাখা।

গত ৫ সেপ্টেম্বর কুয়াকাটা পৌর মহিলা দলের সভানেত্রী মোসাঃ হামিদা বেগম পটুয়াখালী জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগটি কুয়াকাটা পৌর বিএনপির মাধ্যমে জেলা মহিলা দলের কাছে পাঠানো হয়। পরে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ অক্টোবর জেলা মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা বেগম সীমা ও সাধারণ সম্পাদক ফারজানা ইয়াসমিন রুমা স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় সাবিনা ইয়াসমিনকে।

লিখিত অভিযোগে হামিদা বেগম উল্লেখ করেন, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির কার্যালয়ে দলীয় কার্যক্রম চলাকালে সাবিনা ইয়াসমিন ‘চরম বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টি করেন। এ সময় তার সঙ্গে কুয়াকাটা পৌর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদিকা ডলি ফাতিমা এবং কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেলের সঙ্গে অশোভন ও শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।

অভিযোগকারীর ভাষ্য, এ ধরনের আচরণ দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার শামিল। এ কারণে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাবিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়।

অভিযোগের সঙ্গে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির কয়েকজন নেতার সুপারিশও রয়েছে। কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ মুসুল্লী অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর সুপারিশ করেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেল এবং মতিউর রহমান হাওলাদারও অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।

এরপর ৫ অক্টোবর পটুয়াখালী জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির কার্যালয়ে সভা চলাকালে সাবিনা ইয়াসমিন সাংগঠনিক নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ প্রতীয়মান হয়েছে। এতে সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে চিঠি পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে পটুয়াখালী জেলা মহিলা দলের কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে সাবিনা ইয়াসমিনের পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তার শ্বশুরের পরিবারের সদস্যদের একটি অংশ অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০০৬ সালে কুয়াকাটা সৈকতে পটুয়াখালী-৪ আসনের এমপি এবিএম মোশাররফ হোসেনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার একটি ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সাবিনা ইয়াসমিনের দুই ভাসুর মো. আলকাস ও মো. আবুলসহ কয়েকজনের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়েছিল। ওই ঘটনায় প্রায় ২০ জনের একটি দল জড়িত ছিল বলেও স্থানীয়দের দাবি। তৎকালীন লতাচাপলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সুলতান মুসল্লী ঘটনাটির প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।

স্থানীয়দের আরও দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কারণ দর্শানোর নোটিশে তাকে অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রমাণসহ লিখিত জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে তার জবাব পাওয়ার পর অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

রাজনৈতিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে এমন অভিযোগের ক্ষেত্রে দলীয় তদন্ত ও অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ দর্শানোর নোটিশের পর জেলা মহিলা দল কী ধরনের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..