মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বরগুনায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতার আহ্বান তালতলীতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস কৃষি বিভাগের নান্দাইলে সুরাশ্রম দাখিল মাদ্রাসা নবগঠিত এডহক কমিটির সংর্ধ্বনা বেতাগীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম অবহিতকরণ ও প্রেস কনফারেন্স আদমদীঘিতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা আদমদীঘিতে গর্ভকালীন সেবা কার্ড প্রদানে ২০০ করে ঘুষ নেয়ায় তোলপাড় তালতলীতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস উপপরিচালকের আদমদীঘিতে বিএনপির কারা-নির্যাতিত ১৯ নেতাকর্মীকে সংবর্ধনা আমতলীতে ১৪৫ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নোটিশ না দেওয়ার অভিযোগ ব্যবসায়ীদের অসহায় মানুষের পাশে উত্তর তক্তাবুনিয়া আদর্শ যুব কল্যাণ সংস্থা, চিকিৎসা সহায়তা পেলেন দুই নারী

চিলাহাটি রেল দুর্নীতি: পিডি আব্দুর রহিম ও ক্যাসেল কনস্ট্রাকশনের কারসাজিতে ২৩ কোটি টাকা উধাও

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৯৪৫ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

২০২২-২৩ অর্থবছরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল“ভারতের সাথে রেল সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে চিলাহাটি এবং চিলাহাটি বর্ডারের মধ্যে ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ”, সংক্ষেপে চিলাহাটি ব্রডগেজ রেল প্রকল্প। ১৪০ কোটি ৬৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের মেয়াদ প্রথমে জুন ২০২৩ পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও পরবর্তী সংশোধনীতে জুন ২০২৪ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হলেও কাজ এখনো অসম্পূর্ণ, অথচ কাজ শেষ দেখিয়ে বিল উত্তোলনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

সরকারের পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—প্রকল্পের ওয়াশ পিট, প্ল্যাটফর্ম, ফুট ওভারব্রিজ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও ইলেকট্রিক্যাল কাজের বেশিরভাগই শেষ হয়নি, কিন্তু সিভিল কাজ বাবদ ৯ কোটি ৪০ লাখ এবং ওয়াশ পিটের জন্য ১৪ কোটি টাকা—মোট ২৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি ক্রয়বিধিমালা (পিপিআর) ২০০৮-এর ৩৯(১৫) ও ৩৯(১৬) ধারা স্পষ্টভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।

প্রকল্পের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্যাসেল কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড, যার স্বত্বাধিকারী যশোর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা কাজী নাবিল আহমেদ। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আব্দুর রহিমের প্রত্যক্ষ মদদে তারা কাজ অসমাপ্ত রেখেই বিল তুলে নেন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে পলাতক রয়েছেন।

প্রকল্প চলাকালীন সময়ে পিডি আব্দুর রহিম ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (ডিইএন-২), পরে ব্রীজ ইঞ্জিনিয়ার হন। প্রকল্পে অনিয়ম ও সমালোচনার মুখে তাকে পশ্চিম রেল থেকে পূর্ব রেল—চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, তিনি এখনও বহাল তবিয়তে প্রকল্পের অর্থে কেনা ৭৫ লাখ টাকার জাপানি মিতসুবিশি পাজেরো স্পোর্টস গাড়ি ব্যবহার করছেন।

যোগাযোগের চেষ্টা করলে পিডি আব্দুর রহিমকে পাওয়া যায়নি। তবে পূর্বে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন—“টাকা ঠিকাদারকে দেওয়া হয়নি, অর্থবছরের শেষের কারণে হিসাব খাতে রেখে পরে কাজের অগ্রগতির সাথে সাথে পরিশোধ করা হয়েছে। এখন আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ না হলে জিআইবিআরের সুপারিশ অনুযায়ী পানিশমেন্ট দিয়ে বিদায় করা হবে।”

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে,ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তো আগেই বিদায় হয়ে গেছে, তাহলে কাগজে-কলমে বিদায় দিয়ে সরকারের টাকা ফেরত পাওয়ার বাস্তব কোনো সম্ভাবনা আছে কি? আর কাজ অসমাপ্ত থাকলে সেটি শেষ করবে কে?২০২৫ সালের মার্চে সরকারি রেল পরিদর্শক (GIBR) ও পশ্চিম রেলের জিএম ফরিদ আহমেদ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন—ওয়াশ পিটের রেললাইন বসানো হয়নি, সোক ওয়েলের ফিনিশিং কাজ সন্তোষজনক নয় এবং জয়েন্ট কলামে ফাটল রয়েছে। তিনি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে চুক্তি অনুযায়ী আর্থিক জরিমানার সুপারিশ করেন।

সূত্র বলছে, প্রকল্পে জড়িত শুধু পিডি ও ঠিকাদারই নন,রেলের অর্থ ছাড়কারী কর্তৃপক্ষ, সাইট ইঞ্জিনিয়ার ও অন্যান্য কর্মকর্তারাও বিল অনুমোদন ও আত্মসাতে ভূমিকা রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে, একজন সাইট ইঞ্জিনিয়ার ৩০ লাখ টাকার গাড়ি কিনেছেন, বিভাগীয় শহরে বিলাসবহুল বাড়ি করেছেন,এক অফিস সহকারী পাঁচ বিঘা জমি কিনেছেন,যা তাদের স্বাভাবিক আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ বিষয়ে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। বর্তমানে অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা চিলাহাটি, পাকশী, সৈয়দপুর, রাজশাহী ও ঢাকার সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নথিপত্র সংগ্রহ করছেন।

জনমনে প্রশ্ন এই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের দায় নেবে কে? ঠিকাদার? প্রকল্প পরিচালক? নাকি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ? যদি দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অর্থ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে এই ঘটনা ভবিষ্যতের আরও বড় লুটপাটের পথ খুলে দেবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..