কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার তেউরিয়া গ্রামে ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত ছাত্রীর বাবা আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ ডিসেম্বর-২০২৫ (১৬ পৌষ ১৪৩২) বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে তেউরিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির বারান্দা থেকে মোছা. ছনিয়া আক্তার (১৫)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে স্থানীয় একটি আলিম মাদ্রাসার ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
নিহতের বাবা মো. তারু খান অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী সোহেল খান তার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। মেয়ের বয়স কম হওয়ায় পরিবার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি শুরু করে। ঘটনার দিন মৃত্যুর প্রায় আধা ঘণ্টা আগেও মেয়ের সঙ্গে পরিবারের ভিডিও কলে কথা হয়েছে এবং সে স্বাভাবিক অবস্থায় রান্নার কাজ করছিল বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর প্রতিবেশীরা দ্রুত মরদেহ নামিয়ে ফেলে এবং থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে লাশ গোসলের সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন, গলায় হাতের চাপের দাগ, পিঠে ছিলাযুক্ত জখম ও হাতে ফোলা দাগ দেখতে পান স্বজনরা। এতে তাদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
বাদীর অভিযোগ, ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে এবং থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ গড়িমসি করে। তিনি আরও দাবি করেন, নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়নি এবং কিছু আসামি ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে গেছে।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় কিশোরগঞ্জের আমলগ্রহণকারী আদালত নং-৬ এ সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহতের পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে বিবাদীদের জিজ্ঞাসা করা হলে তারা ঘটনাটি মিথ্যা বলে দাবী করেন।
এবিষয়ে তাড়াইল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জালাল উদ্দীনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন- বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা হয়েছে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।