রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী আর নেই তালতলীতে কাবিখা প্রকল্পে অনিয়ম: চাল বিক্রি, ভেকু দিয়ে রাস্তা নির্মাণ মির্জাগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন মোরেলগঞ্জে গভীর রাতে অগ্নিসংযোগ দুই ঘর ভস্মীভূত, ক্ষতি প্রায় ২৫ লাখ টাকা জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার-তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী তাড়াইলে জমি বিরোধে আদালতে মামাল: এক আসামি গ্রেফতার মাছ-মুরগির দাম চড়া, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে গরু-খাসি আয়নাঘরের রূপকার সাবেক ডিজিএফআই প্রধান মামুন খালেদের যত অপকর্ম পদ্মা নদীতে বাসডুবি, তৃতীয় দিনের মতো চলছে উদ্ধার অভিযান তাড়াইলে বাস টিকেট কাউন্টারে উপচে পড়া ভিড়

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৫৭৫৫ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত বাঙালির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও নির্মম অধ্যায়। এ রাতের নিষ্ঠুরতা মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক গণহত্যার সাক্ষী হয়ে আছে। হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের বিভীষিকা এ রাতকে বিশ্ব ইতিহাসের ভয়ালতম গণহত্যার একটি উদাহরণে পরিণত করেছে। এ কারণেই দিনটি ‘কালরাত্রি’ হিসেবে পরিচিত।

প্রতিবছর ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ওই রাতের অভিযানের সাংকেতিক নাম দেয় অপারেশন সার্চলাইট।

মধ্যরাতে ঢাকার পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও নীলক্ষেত এলাকায় নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা চালানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ জন শিক্ষককে হত্যা করা হয়। জহুরুল হক হলে প্রায় ২০০ জন ছাত্র এবং রোকেয়া হলে প্রায় ৩০০ জন ছাত্রীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এ অভিযান ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ১৮ মার্চ থেকেই এর প্রস্তুতি নেয়া হয়। ২৫ মার্চ রাতে শুরু হওয়া এ গণহত্যা মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে চলতে থাকে। দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রাম ও ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

গণহত্যার প্রথম লক্ষ্যগুলোর একটি ছিল রাজারবাগ পুলিশ লাইন। সেখানে পুলিশের সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। প্রায় চার ঘণ্টার লড়াইয়ে অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য শহীদ হন এবং প্রায় দেড়শ জন বন্দি হন।

২০১৭ সালের ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ে কাজ করছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে জেনোসাইড ওয়াচ এবং লেমকিন ইন্সটিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন এ ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আহবান জানিয়েছে।

\দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি ২৫ মার্চকে বেদনার এক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত গণহত্যা, যেখানে শিক্ষক, ছাত্র, পুলিশ ও সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আহবান জানান।

গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আজ দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, দুপুর ১২টা থেকে আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং বাদ জোহর বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন থাকবে। তবে রাতে কোনো আলোকসজ্জা রাখা হবে না।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..