জুলাই আগস্টের বিপ্লবের মাধ্যমে সাবেক ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পালিয়ে যাওয়ার পরে নানা চরাই উতরাই পেরিয়ে নির্বাচন বানচালের স্বরযন্ত্র রুখে দিয়ে বর্তমান সরকার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বিভিন্ন দেশের যুদ্ধের কারনে তেল-গ্যাসসহ নানবিধ সমস্যার মোকাবিলা করছেন তারেক রহমানের সরকার। কিন্তু এতোকিছুর পরেও সাবেক ফ্যাসিস্টদের দোসর আমলারা বিভিন্ন উপায়ে দেশকে অস্থিতিশীল কররা লক্ষ্যে কিছু আমলারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম রয়েছে বিএডিসির আওয়ামী সুবিধা ভোগী ও আওয়ামীলীগ এর প্রভাব বিস্তারকারী ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গত ১২ এপ্রিল’২০২৬ তারিখে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সকল প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সকল সভা আয়োজন করার নির্দেশ প্রদান করা হয় ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যার মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের স্মারক নং: ০৪.০০.০০০০.০০০.৫১৪.০৬.০০০৩.২৫.১৯৪ । কিন্তু সরকারি আদেশ কে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বিএডিসির মোঃ আবীর হোসেন, মহাব্যবস্থাপক (সীড) সম্প্রতি ঢাকা থেকে কক্সবাজারে গিয়ে কর্মশালার আয়োজন করেন বিশাল বহর নিয়ে। মহাব্যবস্থাপক (বীজ) মো: আবীর হোসেন বিএডিসিতে অপ্রতিরোধ্য, পতিত সরকারের এমন কোন প্রভাবশালী মন্ত্রী নাই যার সাথে তার আর্থিক ও ক্ষমতার সংশ্লিষ্টতা ছিলো না। সাবেক ছাত্রলীগের নেতা মোঃ আবীর হোসেন কে কেন্দ্র করে বিএডিসি তে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যাদের কাজ জামাত ও বিএনপি এর দুর্নীতিবাজ নেতাদের আর্থিক ভাবে লাভবান করে স্বপদে বহাল থাকা। মোঃ আবীর হোসেন এর সাথে যুক্ত আওয়ামীলীগ এর সুবিধা ভোগী হুমায়ুন কবির- প্রকল্প পরিচালক, জামায়াতের নেতা মাহবুবর রহমান – যুগ্ম-পরিচালক (বীবি), নাজমুল হোসেন মানিক- প্রকল্প পরিচালক।
এই সিন্ডিকেট বিএডিসি কে আওয়ামীলীগের একটি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এর একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ দিয়েছিলো যা এখনো বহাল। মো: আবীর হোসেন পতিত সরকারের সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের নির্বাচনী এজেন্ট এর দায়িত্ব পালন করতেন। বিএডিসি তে সৎ কর্মকর্তা এবং জাতীয়তাবাদ আদর্শের কর্মকর্তারা এই মহাব্যবস্থাপক এর কাছে জিম্মি। কোন এক অজানা কারনে বিএডিসি বর্তমান চেয়ারম্যান এই সিন্ডিকেটের কাছেই জিম্মি, ধারনা করা হয় আর্থিক লেনদেন আছে। এছাড়া আরও জানা যায় আর্থিক লেনদেন এর কারনে এগ্রিকালচারিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ – এ্যাব এর একটি অংশ এই সিন্ডিকেট কে সমর্থন করেন। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে বিশাল বহর নিয়ে সুদূর কক্সবাজারে কর্মশালার আয়োজনে আরো সংযুক্ত ছিলেন মজিবর রহমান, সদস্য পরিচালক, সেলিম হায়দার, অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (বীজ) সহ কয়েকজন।
এছাড়া সরকার কে বিব্রত করতে এই সিন্ডিকেট তৎপর, বিভিন্ন বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এর কেন্দ্রে পদায়ন করা হয়েছে আওয়ামীলীগের কর্মকর্তাদের। অভিযোগ আছে সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এর ভাগিনা বিএডিসি এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছে। অন্তবর্তীকালিন সরকারের সময় পেয়াজ এর বীজ নিয়ে একটি কেলেংকারী এই অপতৎপরতার একটি প্রমান। এছাড়া খোজ নিয়ে জানা যায় বিএডিসি এর বড় দুটি খামার এর বীজ উৎপাদন, প্রোসেসিং এবং মার্কেটিং এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সকলে আওয়ামীলীগ নতুবা জামায়াতে রাজনীতির সাথে যুক্ত। এই সংবদ্ধ চক্র বর্তমান নির্বাচিত সরকার কে বিব্রত করতে বদ্ধপরিকর। বিএডিসির সাধারণ কর্মকর্তাদের দীর্ঘশ্বাস হাসিনার পতন হলেও হাসিনার এলাকার লোক বিএডিসি এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার মহাব্যবস্থাপক বীজ এ এখনো মোঃ আবীর হোসেন বহাল, এই ফ্যাসিস্ট এর পতন হবে কবে?
সম্প্রতি বিএডিসির সরবরাহকৃত ধানবীজকে ঘিরে নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ। প্যাকেটজাত বীজে একাধিক জাতের মিশ্রণ ধরা পড়ায় চলতি বোরো মৌসুমে ভয়াবহ উৎপাদন বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে এর প্রভাব দৃশ্যমান হওয়ায় ক্ষোভ আর হতাশায় ভুগছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে কেন্দুয়ায় ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ২১০০ টন। কিন্তু ব্রি-৮৮ জাতের নামে বিতরণকৃত বীজের সঙ্গে ব্রি-৮৯, ব্রি-৯২ ও ব্রি-২৯ জাতের সংমিশ্রণ থাকায় অন্তত ৫০০ টন উৎপাদন কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সুস্পষ্ট ভাবে বোঝা যায় বীজ মহাব্যবস্থাপক মোঃ আবীর হোসেন এর ব্যর্থতা নতুবা সরকারের খাদ্য উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করতে সুক্ষ্ম ষড়যন্ত্র।