বরগুনার তালতলী উপজেলার এতিম কিশোর হযরত আলীর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার চরপাড়া বাজারে হরিণখোলা ও চরপাড়া এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে কয়েকশ নারী-পুরুষ অংশ নেন। এসময় বিচার দাবির স্লোগানে পুরো এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি মহল টাকার জোরে হত্যাকাণ্ডটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তারা দাবি করেন, মামলার ২ নম্বর আসামি বশির হত্যাকাণ্ডের আগেই দম্ভোক্তি করে বলেছিলেন, হাসপাতালের চাকরির প্রভাব ব্যবহার করে ময়নাতদন্তের রিপোর্টও নিজেদের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা সম্ভব।
এ বক্তব্যে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান বক্তারা। তারা আরও বলেন, হযরত আলী এতিম হওয়ায় তার পরিবারকে দুর্বল ভেবে একটি চক্র বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এলাকাবাসী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, কোনো প্রভাব বা অর্থের বিনিময়ে এ হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে দেওয়া হবে না।
মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের চাচা হাবিবুর রহমান মুসল্লি বলেন,আমার ভাতিজা এতিম ছিল। ওর বাবা নেই বলেই কি ওর হত্যার বিচার হবে না? আমরা খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এসময় “খুনিদের ফাঁসি চাই”, “এতিম হযরত আলীর হত্যার বিচার চাই”, “টাকার কাছে মানবো না হার—চাই সুষ্ঠু বিচার”সহ নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চরপাড়া বাজার।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত সকল আসামির গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল ফুটবল খেলার সময় একটি গরুর বাছুরের ওপর বল পড়ে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে গরুর মালিক মুছা নামে এক ব্যক্তি এতিম কিশোর হযরত আলীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন ২৬ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রথমে তালতলী থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। পরে নিহতের ১৭ দিন পর, গত ১২ মে বরগুনা আদালতে নিহতের চাচা হাবিবুর রহমান মুসল্লি বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য তালতলী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে তালতলী থানার ওসি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত যেই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সত্য ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।