ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলাকে একটি আধুনিক, উন্নত ও মডেল উপজেলায় রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন এবং সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক জনাব আতিকুর রহমান রুবেল। তাঁর উদ্যোগ ও নিরলস প্রচেষ্টায় শিক্ষা, যোগাযোগ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে একাধিক প্রকল্প অনুমোদিত ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সম্প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও দাপ্তরিক নথি সূত্রে কাঠালিয়া উপজেলায় তাঁর প্রচেষ্টায় পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর বিবরণ প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণ উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতকে ত্বরান্বিত করতে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন: উপজেলার ৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ এবং ৪৬টি বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন অনুমোদন করানো হয়েছে, যার অধিকাংশের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এছাড়া ৭৮টি স্কুলে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য নগদ দেড় ও দুই লাখ টাকা করে বাজেট পাস করানো হয়েছে।
ডিজিটাল ও ব্যতিক্রমী কার্যক্রম: কচুয়া বোর্ড, শৌলজালিয়া এবং রাজাপুরের পশ্চিম গালুয়া দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাসরুম বা ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়া সারা দেশের ৫০টি স্কুলের পাইলট ‘মিল্ক কর্মসূচি’র অধীনে কচুয়া বোর্ড, শৌলজালিয়া ও বিনাপানি বাজারস্থ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে যুক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষক ও অন্যান্য সুবিধা: ইউআরসি (URC) ভবনের সংস্কারে ১২.৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দসহ শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদনের জন্য সর্বোচ্চ ৭.৫০ লক্ষ টাকা পাস নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ডিগ্রি কলেজের ৪২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর সরকারি গেজেট পাস করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পন্টুন সংস্কার দীর্ঘদিনের লোকদাবি ও অবহেলিত সড়ক-যোগাযোগ খাতে অর্জিত হয়েছে বড় সাফল্য:
কচুয়া টু বেতাগী ফেরি ও সেতু: ১৯৯৬ সাল থেকে চলমান কচুয়া-বেতাগী ফেরি সার্ভিস চালু করতে টানা যোগাযোগ করে ২০২১ সালে তা পাস করান এবং পরবর্তীতে তা উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে সেখানে ফেরির পাশাপাশি স্থায়ী সেতু নির্মাণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সড়ক ও টার্মিনাল উন্নয়ন: কাঠালিয়া লঞ্চঘাটের জরাজীর্ণ পন্টুন সরিয়ে নতুন টার্মিনাল স্থাপন করা হয়েছে। কচুয়া, শৌলজালিয়া ও লতাবুনিয়া এলাকায় সওজ ও এলজিইডির ৫টি রাস্তার জন্য মোট সাড়ে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ আনা হয়েছে।
পোস্ট অফিস: উপজেলার প্রাচীন কাঠালিয়া পোস্ট অফিসের নতুন ভবনের জন্য ডিপিপিতে নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
নদী ভাঙন রোধ, পানীয় জল ও ক্রীড়া-সংস্কৃতি বেরীবাঁধ ও টিউবওয়েল: সোনারবাংলা বাজার, বিনাপানি বাজার, কচুয়া হাইস্কুল মাঠ ও আওড়াবুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণে ৩৫০ মিটার বেরীবাঁধ নির্মাণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বিভিন্ন এলাকায় ২০০টিরও বেশি গভীর নলকূপ স্থাপন নিশ্চিত করা হয়েছে।
ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিস্তার: ক্রীড়া পরিদপ্তর থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবে ফুটবল, ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টন সেট বিতরণ করা হয়েছে। কচুয়া হাইস্কুল ও সদর বালিকা বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কারে ২ লাখ টাকা এবং ৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য বই ও নগদ অর্থ অনুমোদন করা হয়েছে।
সামাজিক সেবামূলক কর্মকাণ্ডসমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন ব্যাংকের সহায়তায় এলাকায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে ৭১টি হুইলচেয়ার বিতরণ, শীতার্তদের জন্য ৪ হাজারেরও বেশি কম্বল এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর মাঝে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, প্রশাসনিক যোগাযোগ রক্ষা এবং ব্যক্তিগত সদিচ্ছার কারণে কাঠালিয়ার এই বিপুল পরিমাণ উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। জনাব আতিকুর রহমান রুবেল ভবিষ্যতেও কাঠালিয়ার সার্বিক স্বার্থে এই জনসেবামূলক কাজ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।