বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
আমতলীতে আমড়া-লেবু দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে শিশু কন্যাকে ধর্ষণ চেষ্টা, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার নান্দাইলে ঈদে-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও প্রতিযোগিতা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ মোরেলগঞ্জে কয়লা ধুতে গিয়ে খালে শ্রমিক নিখোঁজ, রাতভর উদ্ধার অভিযান মহানবী (সা.)-এর আদর্শে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির আদালতের রেকর্ড কিপারের বিরুদ্ধে প্রতিবেশীকে হয়রানি ও জমি দখলের অভিযোগ মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ঝাড়ু মিছিলের পর দল থেকেও ঝাড়ু: বহিষ্কার যুবদল নেতা শাহিন আদমদীঘিতে প্রধান শিক্ষকের অশ্রুসিক্ত বিদায় সংবর্ধনা সান্তাহারে ২১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২১০টি বৃক্ষের চারা বিতরণ

জমির দলিল চাইতে গিয়ে ভাবীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ, এএসআই দেবরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
  • ৫৭৯৪ বার পঠিত

বরগুনার তালতলী উপজেলায় জমির দলিল চাইতে গিয়ে ভাবী মোসা. কহিনুর বেগমকে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার দেবর, ভোলা জেলার তজুমদ্দিন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কর্মরত এএসআই মো. খলিলুর রহমান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় খলিলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোসা. কহিনুর বেগম বাদী হয়ে হত্যা চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মো. ইফতি হাসান ইমরান মামলাটি আমলে নিয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তালতলী উপজেলার গাবতলী গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল ঘরামী জীবিত অবস্থায় তার বাবা হামেদ ঘরামীর কাছ থেকে ৩৩ শতাংশ জমি ক্রয়ের জন্য ৩০ হাজার টাকা প্রদান করেন। তবে ২০১৩ সালে ইসমাইল ঘরামীর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে ওই জমির দলিল বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, জমির দলিল না দিয়ে উল্টো পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, গত শনিবার সকালে তিনি শ্বশুর হামেদ ঘরামীর কাছে জমির দলিল চাইতে গেলে হামেদ ঘরামী, তার ছেলে এএসআই খলিলুর রহমান এবং তাদের সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

মামলার বাদী মোসা. কহিনুর বেগম বলেন, আমার স্বামী তার বাবার কাছ থেকে জমি কেনার জন্য ৩০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পরও আমাদের জমির দলিল দেওয়া হয়নি। দলিল চাইতে গেলে আমাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। খলিলুর রহমান পিস্তল দিয়ে আমাকে হত্যারও চেষ্টা করেছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এএসআই মো. খলিলুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কাউকে মারধর করিনি।

আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার মো. আবু বকর বলেন, বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে তালতলী থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তালতলী থানার ওসি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার বলেন, এএসআই খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..