অনুসন্ধানে জানা যায়, বিভিন্ন বড় প্রকল্পের কাজ বণ্টন, বিল পাস এবং অতিরিক্ত বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রভাব খাটিয়ে কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে যেসব প্রকল্পে বরাদ্দ বেশি, সেসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে বিপুল অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
গণপূর্তের একাধিক সূত্র জানায়, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বদলি বাণিজ্যকে কাজে লাগিয়ে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক চক্র গড়ে তোলা হয়েছে। এই চক্রের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, এই অর্থ লেনদেনের বিষয়টি সম্প্রতি দফতরের ভেতরে ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যেই এ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, নারী সংক্রান্ত যে বিতর্ক নিয়ে ইতোমধ্যে দফতরে কানাঘুষো শুরু হয়েছিল, তা এখন তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিসরেও প্রভাব ফেলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মহলেও এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, “বিভিন্ন অভিযোগ একসঙ্গে সামনে আসায় বিষয়টি এখন আর শুধু দফতরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বড় ধরনের একটি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।”
অভ্যন্তরীণ সূত্র আরও জানায়, বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্জনের এই অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু নথিপত্র সংশ্লিষ্ট সংস্থার নজরে এসেছে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গণপূর্ত অধিদফতরের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।