বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০২:১০ পূর্বাহ্ন

বিটিআরসি উপপরিচালকের জিও অতিরিক্ত বিদেশে অবস্থান, ধামাচাপার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ৫৭৫০ বার পঠিত

বহিঃবাংলাদেশ ছুটিতে সরকারি অনুমোদনের নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে অতিরিক্ত ১১ দিন বিদেশে অবস্থান করার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) উপ-পরিচালক খালেদ ফয়সাল রহমানের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ (জিও) অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তিনি তা অনুসরণ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া বা জিও অতিরিক্ত সময়কালের চেয়ে বেশি অবস্থান করার এক মাস পার হলেও সেই উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। আমেরিকা থেকে দেশে প্রত্যাবর্তনের সাত দিনের মধ্যে বিদেশ সফর প্রসঙ্গে প্রতিবেদন জমার দেওয়ার উল্লেখ থাকলেও তাও প্রতিপালন করেননি তিনি। শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও এই কর্মকর্তাকে বাঁচাতে বিটিআরসির একটি মহল বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিটিআরসির মিডিয়া কমিউনিকেশন এন্ড পাবলিকেশন উইংয়ের উপ-পরিচালক মো. আব্দুস শাহীদ চৌধুরী বলেন, এ প্রসঙ্গে এখনো বিস্তারিত বলার মতো কোনো অগ্রগতি জানা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ব্যাপারটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী সাক্ষরিত এক সরকারি আদেশে বিটিআরসির উপ-পরিচালক খালেদ ফয়সালকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। চলতি বছরের ৫ এপ্রিল প্রকাশিত সেই আদেশে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত টেলিকম অবকাঠামো উন্নয়নবিষয়ক ফেলোশিপ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। আদেশ অনুযায়ী তার সফরের সময়কাল ছিল ২৫ এপ্রিল থেকে ৯ মে ২০২৬ পর্যন্ত (যাত্রাকাল ব্যতীত)। কিন্তু ছুটি ফুরিয়ে যাবার ১১ দিন পর বিটিআরসিতে নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেন।

সরকারি আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, খালেদ ফয়সাল নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন এবং কোনো অবস্থাতেই সফরের মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাবে না। এছাড়া দেশে ফিরে যথাসময়ে নিজ কর্মস্থলে যোগদানের শর্তও আরোপ করা হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অনুমোদিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও তিনি আমেরিকায় অবস্থান অব্যাহত রাখেন। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে ছেলের কাছে বেড়াতে যান। সেখানে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলের গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে স্ত্রীসহ যোগ দেন। বিদেশে অবস্থানকালে তিনি ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধির চেষ্টা করেন। ছুটির জন্য বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দারস্থ হয়ে প্রত্যাখিত হলেও তিনি নির্দিষ্ট সময়ে দেশে ফিরে আসা থেকে বিরত থাকেন। ফলে জিও অতিরিক্ত সময় বিদেশে অবস্থানের জন্য প্রশাসনিক বৈধতার চেষ্টা ও বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে উপ-পরিচালক খালেদ ফয়সাল টাইমস টুডেকে বলেন, আমার পেশগত জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন ছিল আমেরিকার এই ফেলোশিপ। একই সময়ে আমার একমাত্র ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজ্যুয়েশন অনুষ্ঠানও ছিল। সেখানে যোগ দিতেই টেক্সাসের ডালাসে গিয়েছিলাম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহিঃবাংলাদেশ ছুটিতে অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন বিদেশ অবস্থান সরাসরি অসদাচরণ এবং শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এর জন্য সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শক্রমে উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..