বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০২:১০ পূর্বাহ্ন

বিআইডাব্লিউটিএর প্রকল্প পরিচালকের নেতৃত্বে লুটপাট ও দূর্নীতির মহাযজ্ঞ

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ৫৭৫১ বার পঠিত

সাবেক নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর আস্থাভাজন নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম আজাদ মোল্লা, কর্মস্থলবাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তপক্ষ (BIWTA) চিলমারী নদীবন্দর স্থাপন প্রকল্পের প্রজেক্ট ডিরেক্টর (PD) পদে নিয়োজিত আছেন।

Chilmari River Port Project মোট বাজেট (Total Budget) এবং (Estimated Cost): প্রায় Tk 335 কোটি (335 Crore Taka)

বাজেটের বিস্তারিত বিবরণ সংশ্লিষ্ট BIWTA প্রকল্প রিপোর্ট অনুযায়ী: মূল অনুমোদিত DPP: প্রায় Tk 235.59 কোটি। পরবর্তীতে সংশোধিত (Revised DPP): প্রায় Tk 335.59 কোটি।

উক্ত প্রকল্পে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ছত্রছায়ায় আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা আওয়ামী পন্থী ঠিকাদার মিলেমিশে প্রকল্পের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাট করেন। উল্লেখ্য নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম আজাদ মোল্লা, সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর এপিএস বাশার এবং DG Bangla প্রতিষ্ঠানের সত্বাধিকারী আরশাদ পারভেজ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বর্তমান যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য, প্রজেক্ট ডিরেক্টর (PD) আবুল কালাম আজাদের কথিত ভাগ্নে Dipn Enterprise এর স্বত্বাধিকারী সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের আস্থাভাজন সজল এবং সুভাস কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদকএই সিন্ডিকেট উক্ত প্রকল্পে দূর্নীতির মূল হোতা বলে চিহ্নিত।

প্রজেক্ট ডিরেক্টর (PD) আবুল কালাম আজাদের কথিত ভাগ্নে সজলের Dipn Enterprise এর নামে নিজস্ব ক্ষমতাবলে Site Development সহ বেশ কিছু কাজ বরাদ্দ দেন। Dipn Enterprise এর নামে কাজ বরাদ্দ দেওয়া হলেও মূলত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম আজাদ মোল্লা, সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর এপিএস বাশার এবং সজল একত্রে এই কাজ পরিচালনার মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ লুটপাট করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। Site Development এর কাজে কোনপ্রকার বালু ভরাট না করেই ভুয়া বিল তৈরী করে হাতিয়ে নেন কয়েক কোটি টাকা। তাছাড়া ভবন নির্মানেও মানা হয়নি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত নকশা। পাইলিং সঠিক ভাবে করা হয়নি একটি ভবনেরও, যা ভবনগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বেশকিছু স্থানীয় লোকজন।

সরজমিনে প্রকল্প পরিদর্শনে গেলে অধিকাংশ মানুষ অভিযোগ করেন ভূমি অধিগ্রহণ অধিগ্রহণের বিল নিয়ে হয়েছে নজির বিহীন জালিয়াতি। কতটা ভয়াবহ জালিয়াতি হলে কাগজপত্রে ঠিকাদার KHANDAKER SHAHIN AHMED LTD & SIGN ENGINEERING LTD (KSL – SEL JOINT VENTURE) হলেও এই প্রকল্পের বিল প্রদান করার প্রমাণ মিলেছে DG BANGLA এর একাউন্ট NRB ব্যাংক, মিরপুর শাখা এবং MEMO NO: 18.14.0000.298.19.021.23/279 এর অনুকূলে আবুল কালাম আজাদ মোল্লার স্বাক্ষরিত DG BANGLA এর নামে পেমেন্ট সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও কোন প্রকার কাজ না করে: ) Fixed Steel Casing smnt thick of Specified 450 mm Inner dia ) Fixed Steel Casing 8 mm thick of specified 450 mm Inner dia পুরো টাকাই ভাগাভাগি হয়েছে যার সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণ রয়েছে:

Name Of Contractor: KSL-SEL JV

DG Bangla – 55%: TK- 33,753,352.99

(Clients + Consultant) – 45%: TK- 27,616,379.72

DG Bangla এর স্বত্বাধিকারী আরশাদ পারভেজ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং বর্তমান যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নেন TK-33,753,352.99 ৪৫% হারে (Clients + Consultant) এর নামে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম আজাদ মোল্লা (PD) নেন TK-27,616,379.72 এই দুর্নীতির অর্থ ভাগাভাগির একটি প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ DG BANGLA এর পক্ষে উক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জন কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে DG BANGLA এর পক্ষের এক কর্মকর্তা বলেন, চাকুরির সুবাদে আমরা উক্ত কাজ করতে বাধ্য ছিলাম এবং এই অর্থ কোথায় কিভাবে লেনদেন হয় তারও বর্ণনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, DIPU ENTERPRISE এর স্বত্বাধিকারী সজল চন্দ্র দত্ত প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লার একান্ত ঘনিষ্ঠ জন হওয়ায় এই প্রকল্পের অধিকাংশ দুর্নীতির অর্থ তিনি গ্রহণ করেছেন এবং তার পরিচালিত ব্যাংক হিসাবDIPU ENTERPRISE, PUBALI BANK PLC, A/C NO: 2905901052073, Foreign Exchange Branch, Routing No: 175272321 এই একাউন্টে জমা রাখেন। এছাড়াও বড় বড় লেনদেন নগদ অর্থের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে।

পাইলিং এর কাজে ধরা পড়েছে মারাত্মক রকম জালিয়াতি দূর্নীতি। অফিস কার্যাদেশে প্রতি ইউনিট পাইলিং 500 mm Dia, Length 40.50 (m) এবং ১৬ mm রড ১০ পিস হওয়ার কথা থাকলেও, প্রতি ইউনিট পাইলিংয়ে 300 mm Dia, Length 23 (m) মিটার এবং ১০ পিসের বদলে পিস ব্যবহার করা হয়। উক্ত পাইলিংয়ের রডের কাজ উপ সাবকন্ট্রাক্টে দেওয়া হয়মায়ের দোয়া কনস্ট্রাকশনস্বত্বাধিকারী মো: নাসির উদ্দিন এর অনুকূলে।

সরজমিনে প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে জানা যায়, প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লা সাইটে পাইলিংয়ের জন্য (TYPE-1 TYPE-2) ২টা নিজের তৈরি করা ড্রয়িং রেখে সেই মোতাবেক কাজ করিয়েছেন, সেই ড্রয়িংয়ে 300 mm Dia, Length 23 (m) এবং ১৬ mm রড পিস।

এই বিষয়ে প্রতিবেদক প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লার সাথে বার বার চেষ্টা করেও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রতিবেদক বার বার মেসেজ দিলে তার উত্তরে তিনি বর্তমান সরকারের এক প্রতিমন্ত্রীর একটা ঠিকাদারি লাইসেন্সের কপি পাঠান এবং লাইসেন্সের অনুকূলে তার প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্পের কাজ সাবকন্ট্রাক্টে দেখানো হয়েছে। রড পাইলিংয়ের কাজের বিলের দূর্নীতির অর্থ ঠিকাদার আরশাদ পারভেজের সাথে প্রকল্প পরিচালক আনুপাতিক হারে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।

বিআইডাব্লিউটিএ এর একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, এই প্রকল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা রয়েছে। তারা আরও বলেন, তৎকালীন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর এপিএস বাশার এবং ঠিকাদার আরশাদ পারভেজ এর বাইরে বিআইডাব্লিউটিএতে কারোরই কিছু বলা বা করার সাহস বা সুযোগ ছিল না।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..