রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
দেশের মানুষকে দেয়া জবান রক্ষা করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে রোজারিওতে মেসি পুলিশ দেখে পচা পুকুরে ঝাঁপ, ডোবায় নেমেই আসামিকে ধরল পুলিশ বিআইডব্লিউটিএর সহকারী সমন্বয় কর্মকর্তা আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ বেতাগীতে বিধবা গৃহবধূকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ রেলের টেন্ডারে শত কোটি টাকার কারসাজির অভিযোগের কেন্দ্রে ‘আফসার’ সিন্ডিকেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র সেকেন্ড ডিজি খ্যাত বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের গডফাদার মাসুম বিল্লাহ কি আইনের উর্ধ্বে আদমদীঘিতে শুমারি স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগে ফলাফলে প্রশংসা, নির্বাচিতদের আ.লীগ ট্যাগে প্রচারণা মেধার স্বীকৃতি হিসেবে ৪২ মেধাবী শিক্ষার্থীকে ‘রাজকীয়’ সম্মাননা দিলো মোরেলগঞ্জ মডেল একাডেমি

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৭৫২ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৮ নম্বর আসামি ও খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে রোববার ভোর ৫টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ আশরাফুল হক ডনকে আটক করে। পরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করা হলে সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

সিআইডির আবেদনে বলা হয়, আশরাফুল হক ডন দীর্ঘদিন ধরে মামলায় পলাতক ছিলেন। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে মামলার বিষয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পুনরায় পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।

আদালত সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আশরাফুল হক ডনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং তার বিষয়ে শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

সালমান শাহ হত্যা মামলা
চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তার মৃত্যুর ঘটনায় সে সময় অপমৃত্যুর মামলা করেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরবর্তী সময়ে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি। অপমৃত্যুর মামলা ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্ত করতে আদালত সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত সিআইডির প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। পরে প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন সালমান শাহর বাবা।

সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর।

মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমানের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে।

দ্রুত বাসায় ফিরে স্বজনরা সালমানকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পাওয়ার কথা মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মরদেহ উত্তোলনের উদ্যোগ
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গত ২০ মে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়।

তবে মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে বাদীপক্ষ আবেদন করলে আদালত তা নথিভুক্ত করেন। পরে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপিও আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

এদিকে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..