মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মির্জাগঞ্জে মাছের ঘের থেকে ১০ পিস ইয়াবাসহ ২ জন গ্রেফতার, মামলা দায়ের দেশে আরো একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে ২০২৪ সালে পরিদর্শন কর্মকর্তার মন্তব্যের পরও ২০২৫–২৬ সালের হাজিরা নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে থুতু নিক্ষেপ ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড একই অভিযোগে বারবার জরিমানা, তবুও বদলায়নি রহমানিয়া পাম্প ঢাকায় হচ্ছে আরেকটি মেট্রোরেল, একনেকে উঠছে প্রকল্প স্থানীয় সরকার নির্বাচন ১২ নভেম্বর শুরু: ইসি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মঙ্গলবার রাত থেকে আগের অবস্থায় ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী নান্দাইলে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান বাড়াতে আন্তঃসংলাপ

নসরতপুর খাদ্য গুদামে বিভিন্ন জেলার চাল মজুত, সরকারি প্রকল্পে সরবরাহের অভিযোগ

মো মাইন, আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: 
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৭৯৪ বার পঠিত
ছবি : সংগৃহীত

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নসরতপুর এলএসডি খাদ্য গুদামে সরকারি নিয়মের বাইরে বিভিন্ন জেলার চাল সংগ্রহ ও মজুত করে সরকারি প্রকল্পে সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের চাল, বস্তায় ভিন্ন জেলার মিলের নাম এবং পুষ্টি চাল সরবরাহের ঘটনায় খাদ্য গুদামের কার্যক্রম নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

জানা গেছে, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র নারীদের প্রতি মাসে বিনামূল্যে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের সুবিধাভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়।

সরেজমিনে বিতরণ করা চালের বস্তা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কয়েকটি বস্তায় দিনাজপুরের পুলহাট এলাকার ‘ইনশাআল্লাহ অটো রাইস মিল’, বগুড়ার শেরপুরের ‘উদয়ন অটো রাইস মিল’ এবং ঠিকানা উল্লেখ না থাকা ‘মদিনা অটো রাইস মিল’-এর নামের টেনসিল রয়েছে। আবার কিছু বস্তায় ‘পুষ্টি চাউল’ লেখা থাকলেও নিচে একাধিক অস্পষ্ট টেনসিল থাকায় চালের প্রকৃত উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এছাড়া সুবিধাভোগীদের জন্য আমন মৌসুমের চাল বরাদ্দের কথা থাকলেও বিতরণ করা কয়েকটি বস্তায় ‘বোরো/২০২৫’ লেখা পাওয়া যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সান্তাহারের বুশরা গ্রুপের চাল তুলনামূলক ভালো মানের হলেও অন্যান্য কিছু বস্তার চালের মান ছিল নিম্নমানের।

আরও গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ‘পুষ্টি চাউল’ নিয়ে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আদমদীঘি উপজেলা পুষ্টি চাউল কর্মসূচির আওতাভুক্ত না হলেও ওই উপজেলার গুদাম থেকে পুষ্টি চাউল সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনায় চালের উৎস, বরাদ্দ ও সরবরাহ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

খাদ্য বিভাগের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকার খাদ্য গুদামে স্থানীয়ভাবে অবস্থিত অনুমোদিত অটো, সেমিঅটো ও হাসকিং চালকল থেকে সংগৃহীত চাল মজুত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তাহলে নসরতপুর এলএসডিতে দিনাজপুর, শেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মিলের চাল কীভাবে এলো—এ প্রশ্নের উত্তরও এখনো স্পষ্ট নয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত ২৬ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নসরতপুর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুমা আফরিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে গুদামে পাওয়া যায়নি। পরদিন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থানের কথা জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

আদমদীঘি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার আবুল বাশারের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এমনটা তো হওয়ার কথা না।” তিনি বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দেন। বিস্তারিত জানতে ২৭ আগস্ট তাঁর দপ্তরে সাক্ষাৎ করতে বলা হলেও পরে তিনি বগুড়া খাদ্য নিয়ন্ত্রণ দপ্তরে অবস্থানের কথা জানান।

সরকারি খাদ্য গুদামে চালের উৎস, মান, বস্তার টেনসিল, বরাদ্দ ও সরবরাহের মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..