কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে নিজেদের ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করে।
অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ কামরুল হাসান মারুফের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন কিশোরগঞ্জ পৌর কলেজিয়েট স্কুলের সম্মানিত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
পুরস্কার গ্রহণের সময় উপস্থিত অতিথি ও শিক্ষকমণ্ডলী তাঁকে অভিনন্দন জানান। এ সময় ক্রীড়াক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা শিক্ষার্থীদের মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতেও সহায়ক।
৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে ঘিরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
কিশোরগঞ্জ পৌর কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান পুরস্কার গ্রহণ করায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের ক্রীড়ামুখী করতে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা যোগদানের পর থেকে শিক্ষা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি সহ নানা দিক বিষয়ে অত্যন্ত তৎপর ভুমিকা পালন করে আসছে। সদর উপজেলা সংলগ্ন গাইটাল একটি বড় এলাকা। যেখানে অধিবাসী গণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে চরম আকার ধারণ করে এবং চরম ভোগান্তির মাঝে অতিবাহিত করতে হয়। কিন্তু বর্তমান উপজেলা নির্বাহী হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে উপজেলা সংলগ্ন পানি দ্রুত নিস্কাষনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ নেন। ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমে অনেকাংশে দুর্ভোগ লাঘব হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা লিংক রোডের বাসিন্দা অধ্যাপক মো মাহবুবুর রহমান বাবুল জানান, এই এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় হালকা বৃষ্টিতে চরম আকার ধারণ করে। বিগত সময়ে অনেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পানি নিস্কাষনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আবেদন করে ও এলাকাবাসী সাড়া পায়নি। কিন্তু তিনি যোগদানের পরই এলাকাবাসীকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন এবং বাস্তবায়ন করেন। এর জন্য এলাকাবাসী পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।