শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, পড়াশোনায় মনোযোগ, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের লক্ষ্যে ময়মনসিংহের নান্দাইলে চন্ডিপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চন্ডিপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক এনামুল হক বাবুল, সিনিয়র সাংবাদিক রবিউল আলম ফরাজী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী হওয়া, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেই হবে না; তাদের আদর্শ, সৎ, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় থাকা জরুরি।
তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সন্তান নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না, পড়াশোনায় মনোযোগ দিচ্ছে কি না এবং তার আচরণ ও চলাফেরা কেমন—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতনভাবে খোঁজখবর রাখতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও ফাতেমা জান্নাত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ এবং শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিজানুর রহমান লিটন বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
সমাবেশে অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, লেখাপড়ার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করা এবং শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ, উন্নত শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত অভিভাবক সমাবেশটি শেষ হয়।