বরগুনার বেতাগীতে জনকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বেতাগী মডেল মসজিদের অডিটোরিয়াম হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার ৪০ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেতাগী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান। এ সময় বেতাগী জনকল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. শাহাদাৎ হোসেন মুন্না, পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ড. মুহিবুল্লাহ শাহীন, বেতাগী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইদুল ইসলাম মন্টুসহ পরিষদের সদস্য, কৃতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বেতাগী জনকল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. কামাল হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. শাহাদাৎ হোসেন মুন্না।
আলোচনা পর্বে বক্তারা কৃতি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতাকে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তারা। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের পথচলা নিয়েও বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করে ভবিষ্যৎ পথচলায় সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কৃতি শিক্ষার্থী আদরী আক্তার তার জীবনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জীবনে নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তেন, তখন তার মা মারা যান। এরপর অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় হারান বাবাকেও। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে ভালো ফল অর্জনের জন্য তাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।
নিজের এই সাফল্যের কৃতিত্ব পরিবার ও শিক্ষকদের দিয়ে আধরি আক্তার বলেন, তাদের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা তাকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।
আদরী আক্তারের সংগ্রামের কথা শুনে অনুষ্ঠানে তার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন বেতাগী জনকল্যাণ পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ড. মুহিবুল্লাহ শাহীন। তিনি আদরী আক্তারের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের সব খরচ বহনের দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান।
আয়োজক বেতাগী জনকল্যাণ পরিষদের নেতারা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং তাদের ভবিষ্যৎ স্বপ্নপূরণের পথে অনুপ্রেরণা জোগাতেই এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করে উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যেতে পারে এবং দেশ ও সমাজের জন্য নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে, সে লক্ষ্যেই তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।