বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১১ নম্বর বহরবুনিয়া ইউনিয়নের মাস্টার বাজার সংলগ্ন বহরবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় নির্ধারিত সময়ের আগেই নিয়মিত ছুটি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ছুটি হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।
এ সময় মাদ্রাসার সুপার এ.এইচ.এম. বদরুদ্দোজা প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ‘যা পারেন লিখে দেন’ বলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী, ১৪ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসাটিতে প্রতিদিনই দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মাদ্রাসার সহকারী সুপার মো. সিদ্দিকুর রহমান বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমাদের মাদ্রাসা প্রতিদিন ১টার দিকে ছুটি দেওয়া হয়। এটি মফস্বল এলাকা হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী না খেয়ে মাদ্রাসায় আসে। সে কারণে তাদের কথা বিবেচনা করে ছুটি দেওয়া হয়।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, “প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর আগেও ২০২২ সালে ‘বহরবুনিয়া মাদ্রাসায় দুপুর ১টা বাজলেই ছুটি’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। এরপরও একই অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।”
তাদের দাবি, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “সরকারি নিয়ম সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে মফস্বল এলাকার অনেক শিক্ষার্থী সকালে খাবার খেয়ে আসতে পারে না—এমন বিবেচনায় শিক্ষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সকাল ৯টা থেকে একটানা দুপুর ৩টা পর্যন্ত মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনার অনুরোধ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো প্রতিষ্ঠান এ নিয়ম ভঙ্গ করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বহরবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসার বিষয়টি নিয়েও যথাযথ জবাব চাওয়া হবে।”
স্থানীয় অভিভাবকরা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের পাঠদান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।