বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
আদমদীঘিতে প্রশাসন ফুটবল টুর্নামেন্টে নসরতপুরকে হারিয়ে সেমিফাইনালে সান্তাহার পৌরসভা ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত রূপপুর, অনুমতির অপেক্ষা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ১৫৫ কোটি টাকা দেবে অস্ট্রেলিয়া নান্দাইলে বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ মোরেলগঞ্জে বিএনপির মাদকবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ মোরেলগঞ্জে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ৫ হাজার মিটার জাল ধ্বংস, জরিমানা ১০ হাজার টাকা আদমদীঘিতে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা মোরেলগঞ্জে সদর ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল কুয়াকাটা মহিলা দলের নেত্রীর বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ, কারণ দর্শানোর নোটিশ

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত রূপপুর, অনুমতির অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫৭৫৩ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের (পিওআরভি/পিওএসভি) সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বি টু বা ক্রিটিক্যালিটিতে যাওয়ার অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বায়রা এ অনুমতি দেবে। এ ধাপে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরি করা হবে। অর্থাৎ, চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদভাবে শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। আগের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবনের ভোগান্তি কাটাতে সবার নজর এখন নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দিকে। সবার প্রশ্ন, কবে আসবে এ বিদ্যুৎ?

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা আইএইএ’র গাইডলাইন অনুযায়ী, রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের স্টেজ বি ওয়ান মোটামুটি সফলভাবে শেষ হয়েছে। সবশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতাও কেটে গেছে।

এরপরের ধাপ বি টু। এ ধাপে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয়। এরপরই শুরু হয় ক্রিটিক্যালিটি। এটি এমন একটি পর্যায়, যেখানে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদভাবে শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।

এখানে ধাপে ধাপে সফলভাবে এগিয়ে ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত এলে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন বলেন, আমরা সবকিছু বায়রাকে সাবমিট করেছি। পারমিশন পেলেই আমরা পরবর্তী স্টেজে যাব, যেটাকে বি টু বলে।

রূপপুর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংযোগ স্থাপনের জন্য আটটি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব লাইনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রূপপুর এনপিপির প্রথম ইউনিটকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে নিরাপদভাবে সংযুক্ত করে প্রাথমিকভাবে শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা ৩ শতাংশ থেকে ধাপে ধাপে ২০ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এরপর জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। উৎপাদন শুরুর পর টানা ৭-৮ মাস পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলতে পারে। তবে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রূপপুর প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারিত ছিল। দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের খরচ বাড়ানোর সুযোগ নেই। তবে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..