চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পৈত্রিক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিনজনকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানেও পরিবারের এক সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে আহত গৃহবধূ জুলেখা বেগম আশঙ্কাজনক অবস্থায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর মোল্লাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. কামরুল ইসলাম শিবগঞ্জ থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, পৈত্রিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ঘটনার দিন অভিযুক্ত আনসুর আলীর একটি ছাগল কামরুল ইসলামের আমগাছের পাতা খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় কামরুলের মেয়ে মৌসুমী খাতুন ছাগলটি তাড়িয়ে দিলে অভিযুক্তরা লাঠি, লোহার রড ও ধারালো হাসুয়া নিয়ে তাঁদের বাড়ির গলিতে প্রবেশ করে। পরে মৌসুমীর স্বামী রুবেল প্রতিবাদ করলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে মৌসুমীর নাকের ওপরের অংশে লোহার রডের আঘাতে গুরুতর জখম হয় এবং রুবেলের কপালে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে কামরুলের স্ত্রী জুলেখা বেগমকেও মারধর করা হয়। এজাহারে তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত, নাকে লোহার রড দিয়ে আঘাত এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে কামরুল ইসলামের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। তাঁর দাবি, অভিযুক্তদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জন হাসপাতালে প্রবেশ করে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
জুলেখা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাঁকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তাঁরা ভিডিও বক্তব্যে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, শিবগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।