জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইতিহাসে সিলেট-৬ বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ নির্বাচনী আসনে কখনো জিততে পারেনি ধানের শীষ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর বিজয়ের মাধ্যমে এই আসনে প্রথমবার জিতল বিএনপি।
এর আগে স্বতন্ত্র হিসেবে জয়লাভ করে এই আসন থেকে বিএনপিতে যোগ দেন সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন। তিনি দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সিলেট-৬ আসনে ২ মেয়াদে স্বতন্ত্র, ১ মেয়াদে জাতীয় পার্টি এবং অপর সময়ে আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। তবে দীর্ঘ সময়ে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলেও দল হিসেবে তারা শক্ত অবস্থান গড়তে পারেনি।
এই আসনে প্রথমবার ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে রেকর্ড গড়লেন এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। অথচ ভোটের মাঠে তাঁকে নিয়ে বেশ দু:শ্চিন্তায় ছিলেন দলীয় নেতাকর্মী ও শোভাকাংখিরা। নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি জামায়াতে ইসলামীর সেলিম উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজ ফখরুল ইসলামের প্রচার-প্রচারণার কাছে তিনি ছিলেন অনেকটা অসহায়। তবে ভোটের দিন সকাল থেকে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। বেলা গড়ানোর সাথে সাথে এমরান চৌধুরীর মুখে হাসি ফুটতে থাকে। বিকেলে ফলাফল ঘোষনার সময়ও একবার তিনি এগিয়ে আবার আরেকবার পিছিয়ে পড়েন। যদিও নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি জামায়াতে ইসলামীর সেলিম উদ্দিনকে পরাজিত করে বিজয়ের মালা পরেন তিনি।
সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল বলেন, প্রথমবার ধানের শীষের প্রার্থী জয়লাভ করায় অন্যরকম অনুভুতি পাচ্ছি। বিয়ানীবাজার বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আহমদ রেজা ও সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার হোসেন বলেন, এ বিজয় এক অন্যরকম অনুভূতি, দীর্ঘদিন পর মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ, এবং আসনটি বিএনপির হওয়ায় বিজয়ের এক আনন্দের সঙ্গে একাধিক আনন্দ যুক্ত হয়েছে।
বিজয়ী প্রার্থী এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জবাসী আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন তা চিরদিন আমি মনে রাখব। ইনশাআল্লাহ আপনাদের দেয়া এই রায়কে সম্মান জানিয়ে আমি সর্বশক্তি দিয়ে আপনাদের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।বিজয়ের সাফল্য ধরে রাখার জন্য তিনি সবাইকে ধন্যবাদ এবং সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছেন।