মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বেতাগীতে পল্লীবিদ্যুতের ভূতুড়ে ও অসঙ্গতিপূর্ণ বিলে গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ হরিরামপুরে জমি বিরোধে বোনকে মারধর, হোটেলে ভাঙচুরের অভিযোগ ভাই-ভাবির বিরুদ্ধে নান্দাইল উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে টিকিয়ে রাখা রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব : তথ্যমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে প্রবাসীর বাড়িতে চুরির অভিযোগ আদমদীঘি উপজেলায় ইউএনও মাসুমা বেগম প্রশংসায় ভাসছেন ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৪৫৮ বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সমাধিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আমতলীতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ফরমে কারচুপি, অন্য স্কুলে গোপনে রেজিস্ট্রেশন

আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৭৮৫ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

বরগুনার আমতলীতে নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করা ৩১ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে অন্য একটি বিদ্যালয়ের নামে ফরম পূরণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার ( ১৯ এপ্রিল) সকালে আমতলী সরকারি আরমান খোরশেদ হাই স্কুলে। জানা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ওই বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী গত বছরের অক্টোবর মাসে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এতে ৩১ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ফরম পূরণ না করার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রহমান ফরম পূরণের আশ্বাস দিয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা আদায় করেন।

রোববার প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে বিদ্যালয়ে গেলে ওই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আরও এক হাজার টাকা করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা দেখতে পান, তাদের ফরম পূরণ ও নিবন্ধন করা হয়েছে ‘পাতাকাটা নুরুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়’-এর নামে। এতে তারা হতবাক হয়ে পড়েন।

অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তামান্নার বাবা হানিফ হাওলাদার বলেন, “আমার মেয়ে ফেল করার পর প্রধান শিক্ষক ফরম পূরণের কথা বলে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। রোববার প্রবেশপত্র আনতে গিয়ে আরও ৫০০ টাকা বিকাশে দিতে হয়েছে। পরে জানতে পারি, অন্য বিদ্যালয়ের নামে ফরম পূরণ করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও শাস্তি চাই।”

পরীক্ষার্থী জিদান ও মোসা. লিজা অভিযোগ করে বলেন, ফরম পূরণের নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রবেশপত্র নিতে গিয়ে আবার টাকা দিতে হয়েছে। আমরা প্রতিবাদ করলে স্যার আমাদের অপমান করে বের করে দেন। আমরা এর বিচার চাই।

এ বিষয়ে পাতাকাটা নুরুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুল গাফফার বলেন, ৩১ জন শিক্ষার্থীর নিবন্ধন ও ফরম পূরণের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। শুধুমাত্র একটি স্বাক্ষর নিয়েছেন। কীভাবে এসব করা হয়েছে, তা বজলুর রহমান বলতে পারবেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আমতলী সরকারি আরমান খোরশেদ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রহমান ৫ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ফেল করা শিক্ষার্থীদের একটি বছর নষ্ট হয়ে যেত, তাই অন্য বিদ্যালয় থেকে ফরম পূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে প্রবেশপত্র দেওয়ার সময় কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, প্রধান শিক্ষক এমন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..