মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বেতাগীতে পল্লীবিদ্যুতের ভূতুড়ে ও অসঙ্গতিপূর্ণ বিলে গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ হরিরামপুরে জমি বিরোধে বোনকে মারধর, হোটেলে ভাঙচুরের অভিযোগ ভাই-ভাবির বিরুদ্ধে নান্দাইল উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে টিকিয়ে রাখা রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব : তথ্যমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে প্রবাসীর বাড়িতে চুরির অভিযোগ আদমদীঘি উপজেলায় ইউএনও মাসুমা বেগম প্রশংসায় ভাসছেন ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৪৫৮ বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সমাধিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আমতলীতে নারীর রহস্যজনক মৃত্যু: তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধার অভিযোগ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৭৮৩ বার পঠিত

বরগুনার আমতলী পৌর শহরে শারমিন আক্তার রুবা (২৭) নামে এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধার অভিযোগ উঠেছে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, পৌর শহরের মহিলা কলেজ সড়কের একটি ভাড়া বাসায় প্রায় এক বছর ধরে মা জাহানারা বেগমকে নিয়ে বসবাস করছিলেন শারমিন আক্তার রুবা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে, একাধিক ডাকাতি মামলার আসামি রাহাত ফকির। তাদের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছিল। কখনো তারা স্বামী-স্ত্রী, আবার কখনো প্রেমিক-প্রেমিকা হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে জানান স্থানীয়রা।

বুধবার সকালে শারমিন ও রাহাতের মধ্যে ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বাসা থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে রাহাত ফকির একটি অ্যাম্বুলেন্স এনে শারমিনকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হুমায়ুন আহমেদ সুমন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাহাত ফকির দাবি করেন, শারমিন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে এ মৃত্যুকে ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

খবর পেয়ে আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন হাসপাতালে যান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিহতের মরদেহ ও তার মাকে একটি কক্ষে নিয়ে প্রভাবশালী কয়েকজন স্থানীয় নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওই কক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।

পরে মরদেহ ও নিহতের মাকে থানায় নেওয়া হলে সেখানেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। এমনকি নিহতের মাকে রাতভর থানায় রাখা হয় বলেও জানা গেছে।

এদিকে, ঘটনার আগে শারমিন তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে লেখেন, আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমার জীবন যাহারা নষ্ট করেছে, আল্লাহ যেন তাদের ধ্বংস করে দেন। তবে তার মৃত্যুর পর ওই পোস্ট ও রাহাত ফকিরের সঙ্গে থাকা কয়েকটি ছবি মুছে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাহাত ফকির শারমিনের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করছিলেন। তবে তাদের সম্পর্ক নিয়ে ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পেতেন না। ঘটনার দিন সকালেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং শারমিনকে কান্না করতে দেখা যায়।

ঘটনার পর থেকে রাহাত ফকিরের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই খুদা বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে হত্যার প্রমাণ মিললে প্রভাবশালী কেউ হলেও ছাড় দেওয়া হবে না। পাশাপাশি ঘটনাটি আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..