মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বেতাগীতে পল্লীবিদ্যুতের ভূতুড়ে ও অসঙ্গতিপূর্ণ বিলে গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ হরিরামপুরে জমি বিরোধে বোনকে মারধর, হোটেলে ভাঙচুরের অভিযোগ ভাই-ভাবির বিরুদ্ধে নান্দাইল উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে টিকিয়ে রাখা রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব : তথ্যমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে প্রবাসীর বাড়িতে চুরির অভিযোগ আদমদীঘি উপজেলায় ইউএনও মাসুমা বেগম প্রশংসায় ভাসছেন ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৪৫৮ বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সমাধিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বেতাগীতে পল্লীবিদ্যুতের ভূতুড়ে ও অসঙ্গতিপূর্ণ বিলে গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি :
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৭৫৪ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

বরগুনার বেতাগীতে অতিরিক্ত ও অসঙ্গতিপূর্ণ বিদ্যুৎ বিল আসায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ। এ নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। প্রায়শই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় একাধিক গ্রাহকরা।

স্থানীয় গ্রাহক জসিম উদ্দীন অভিযোগ করেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বেতাগী সাব-জোনাল অফিসের আওতাধীন তার বিদ্যুৎ সংযোগে মিটারের রিডিংয়ে আগে যা ছিল ১৮৫ ইউনিট তার স্থলে এবারে ৪৪০ ইউনিটে দেখানো হযেছে। আগের ১ হাজার ৪ ‘শ টাকার বিলের স্থলে ৩ হাজার ৯৪৬ টাকার অস্বাভাবিক ও মনগড়া ‘ভুতুড়ে বিল’ করা হয়েছে। এমন অবস্থায় অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।‎

বেতাগী বন্দরের ব্যবসায়ী রুবেল মল্লিক জানান, স্বাভাবিক ব্যবহারের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ এমনকি তারও বেশি বিল হাতে পাচ্ছেন গ্রাহকরা। মিটার দেখে রিডিং না নিয়ে অফিসে বসে মনগড়া বা অনুমাননির্ভর বিল তৈরি করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ ও সাধারণ গ্রামবাসী এই অতিরিক্ত বিলের বোঝা টানতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় আরও একাধিক গ্রাহক দাবি করেন, অনুমাননির্ভর বিল তৈরি করে গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বেতাগীতে ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত দপ্তরের পদক্ষেপ গ্রহন ও অন্যান্য ভুক্তভোগী গ্রাহকদেরও নিজেদের মিটারের রিডিংয়ের ছবি সংরক্ষণ করার আহ্বান জানান।‎

জানা গেছে, চলতি মাসেও বেতাগী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অসংখ্য গ্রাহক অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, গত মাসজুড়ে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং থাকলেও অনেকের বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের প্রতি গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রকৃত মিটার রিডিং সংগ্রহ না করে অনেক ক্ষেত্রে অনুমানভিত্তিক বিল তৈরি করা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী আফিসার (ইউএনও) মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন,‘আমিও প্রায়শই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসঙ্গতিপূর্ণ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ ও অভিযোগ দেখি। অনুমান ভিত্তিক বিল তৈরি কোনভাবেই কাম্য নয়। সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বেতাগী সাব-জোনাল অফিসের স্থানীয় দায়িত্বরত কর্মকর্তা বলেন, ব্যবহার বেশি হওয়া বা রিডিংয়ে কোনো ভুলত্রুটি থাকলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তা সমন্বয় করা হবে।
এ দিকে স্থানীয় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা দ্রুত এই অতিরিক্ত ও হয়রানিমূলক বিল বন্ধ করে সঠিক বিল দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..