বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ : ১০১ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগ তাড়াইল সদর ইউনিয়নে দুঃসময়ের সুহৃদ সাথী নূরে আলম সিদ্দিকী বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম-পরিচালক মাহফুজ উল আলমের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি ও কমিশন বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপির উদ্যোগে অতিরিক্ত ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার বদলি আদেশ গায়েব করে এক যুগ ধরে সিএফ কার্যালয়ে হিসাবরক্ষক ইউছুপ: ৯ ডিভিশন থেকে মাসোহারা ও কোটি টাকার বদলি বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য বিসিএসআইআর স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিস্ক্রিয় ও প্রতারক হজ্ব এজেন্সির পথ বন্ধের উদ্যোগ ১০ লক্ষ টাকার ঘুষ বাণিজ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশও তোয়াক্কা করেননি রেঞ্জ কর্মকর্তা কবির, এবার নতুন জালিয়াতির টিপিতে পদুয়ায় আটক ট্রাক ২ লক্ষ টাকার সমঝোতায় রাতের আঁধারে রফা গণপুর্তের প্রকৌশলী মইনুলের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগ

সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ : ১০১ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৭৫১ বার পঠিত
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কয়েকজন সাংবাদিক, অভিনয়শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে একটি অজ্ঞাত সংগঠনের অভিযোগ দায়েরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ১০১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের স্বাধীন বিকাশ এবং পেশাগত নিরাপত্তা রক্ষায় তারা এই ধরনের পদক্ষেপকে হয়রানিমূলক বলে আখ্যা দিয়েছেন।Multilateral Organizations

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে লেখক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, আইনজীবী ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার এই প্রতিনিধিরা তাদের উদ্বেগের কথা জানান।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যায় প্ররোচনা, সহযোগিতা, উসকানি বা সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৮ জন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, অভিনেতা-অভিনেত্রী, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করে ‘রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম’ (এসডিএফ)।Multilateral Organizations

রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের (এসডিএফ) কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াসের নেতৃত্বে দাখিল করা এই অভিযোগে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন— সাবেক এমপি চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, রিয়াজ আহমেদ, চিত্রনায়িকা মেহের আফরোজ শাওন, অরুণা বিশ্বাস, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, মাহিয়া মাহি, নিপুণ আক্তার, অভিনেত্রী তানভীন সুইটি, নাট্যব্যক্তিত্ব হৃদি হক, অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি, অভিনেতা সাজু খাদেম, অভিনেত্রী সোহানা সাবা, মডেল ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল, অভিনেত্রী ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের নেত্রী শামীমা তুষ্টি, অভিনেতা হিরো আলম, অভিনেত্রী আশনা হাবীব ভাবনা, চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক, অভিনেত্রী সুজাতা আজিম, চিত্রনায়ক জায়েদ খান, অভিনেতা আজিজুল হাকিম, অভিনেতা চন্দন রেজা, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও প্রবীণ অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর, মডেল মারিয়া কিসপট্টা, শান্তা ফারজানা, মোবিন মেহেদী, সাংবাদিক আনিস আলমগীর ও সোমা ইসলাম।

বিবৃতিতে বলা হয়, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেকোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে এই অধিকার কখনোই ব্যক্তি, শিল্পী বা সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করা, পেশাগতভাবে হয়রানি করা কিংবা ভিন্নমতকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া উচিত নয়। অভিযোগের ভিত্তি, প্রমাণ ও আইনগত গ্রহণযোগ্যতা যাচাই না করে জনপরিসরে এমন পদক্ষেপ নেওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।

শিল্প, সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতিচর্চার বিকাশের জন্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে একটি মৌলিক পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করে বিশিষ্টজনেরা বলেন, ভিন্নমত, সমালোচনা কিংবা রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে শিল্পী, সাংবাদিক বা নাগরিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগ ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক পরিবেশকে দুর্বল করে এবং সমাজে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে।

আইনকে যেন ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা প্রতিহিংসামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা না হয়, সে বিষয়ে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিবৃতিদাতারা। কোনো নাগরিককে অযৌক্তিক বা ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে পেশাগত বা সামাজিকভাবে হয়রানির সুযোগ সৃষ্টি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তারা জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশের সকল গণতান্ত্রিক শক্তি, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

কবি ও প্রকাশক আরিফ নজরুল এবং কবি ও কলামিস্ট মীর রবির পাঠানো এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ড. নুরুন নবী, কবি নির্মলেন্দু গুণ, কবি ও সাংবাদিক সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুসাহিত্যিক রহীম শাহ, অধ্যাপক ড. শামীম আহমেদ এবং অধ্যাপক এস এম মাসুম বিল্লাহ।

এই তালিকায় আরও রয়েছেন কানাডার কার্লটন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদ হাসান, কথাসাহিত্যিক ড. মুকিদ চৌধুরী, শিক্ষক ও লেখক ড. প্রদীপ মাহবুব, লেখক ও গবেষক সুজাত মনসুর, শিক্ষক ও গবেষক ড. ফরিদ আহমেদ, শিশুসাহিত্যিক হুমায়ূন কবীর ঢালী, কবি ও প্রকাশক আরিফ নজরুল, কবি ও সম্পাদক হাসানআল আব্দুল্লাহ, চিকিৎসক ডা. সাজিয়া আফরিন ও ডা. শঙ্খময় ঘোষ, কবি অনিকেত শামীম, সহযোগী অধ্যাপক ড. শিবলী চৌধুরী, কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ড. মাসুদ পথিক, সংগঠক স্বীকৃতি বড়ুয়া, বিজ্ঞান লেখক আবদুল গাফ্ফার রনি, সাংবাদিক আবু সালেহ রনি ও জুয়েল রাজ, গবেষক দেওয়ান গৌস সুলতান এবং লেখক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ হরমুজ আলী।

এ ছাড়া স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন কথাশিল্পী ও অনুবাদক সোহরাব সুমন, সাংবাদিক সাব্বির খান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংস্কৃতিক কর্মী মিজানুর রহমান খান, সাংবাদিক মেহেদী হাসান, কথাসাহিত্যিক ড. সাখাওয়াত নয়ন, ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক তুষার আহমেদ, সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট শায়লা আহমেদ লোপা, কবি ফকির ইলিয়াস, ছড়াকার ও গীতিকার সিরাজিয়া পারভেজ, কথাসাহিত্যিক শামস সাইদ, লেখক সঞ্জয় সরকার, কবি কাইয়ুম খান, গল্পকার খালেদ চৌধুরী, কবি নূরজাহান নীরা, কবি ও কলামিস্ট মীর রবি, সচেতন নাগরিক রাবেয়া মিতু, কবি সৈয়দ হেলাল সাইফ, কবি মাহমুদা সুলতানা, কবি ফারহানা ইলিয়াস তুলি, কবি স্বপ্নীল ফিরোজ ও কবি মিলন সব্যসাচী।

তালিকায় আরও স্বাক্ষর করেছেন, লেখিকা শামীমা আক্তার, কবি মাহমুদ নোমান, লেখিকা ফারজিনা আক্তার, অ্যাক্টিভিস্ট সরোয়ার সবুর, কবি সরোয়ার জাহান, অভিনেতা জামশেদ শামীম, সাংস্কৃতিক কর্মী মনিরা বুবলী, কথাসাহিত্যিক ও সম্পাদক রাশেদ রেহমান, আইনজীবী ও লেখক আয়েশা জেবীন, শিক্ষক ও সাংবাদিক লিটন কুমার ঢালী, সাংবাদিক অসীম কুমার দেবনাথ, গল্পকার ও সম্পাদক আলমগীর মাসুদ, প্রকাশক আলমগীর রুমী, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিককর্মী জাহাঙ্গীর হোসেন, কবি ও প্রকাশক অজয় কুমার রায়, লেখক ও গবেষক আলমগীর শাহরিয়ার, সাহিত্যিক আপন অপু এবং পেশাজীবী আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় আরও আছেন, সাংবাদিক ও লেখক মেহেদী হাসান, প্রযোজক ও পরিবেশক শেখ শাহ আলম, সাংবাদিক ও কলামিস্ট এইচ এম এ হক বাপ্পি, লেখক ও প্রকাশক রবীন আহসান, অ্যাক্টিভিস্ট আকরামুল হক, যুব সংগঠক এম এম মেহেরুল, কবি মানিক বৈরাগী, কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস, সাংস্কৃতিককর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক শাহরিয়ার রিয়ন, কবি ডাল্টন সৌভাত হীর, বাচিক শিল্পী মাহমুদুল হাসান, কবি ও গবেষক নিয়াজ আল কাজী, কবি ইলা লিপি, কবি সোহরাব সুমন, সাংবাদিক দস্তগীর জাহাঙ্গীর, কবি ও চারুশিল্পী রিঙকু অনিমিখ, কবি অয়ন্ত ইমরুল, সাংবাদিক মুহাইমিনুল ইসলাম, গীতিকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠক শরীফুল ইসলাম সরকার, কবি ও আবৃত্তিশিল্পী শামীমা আফরোজ হ্যাপি, গণমাধ্যম কর্মী আল আমিন হোসেন, কবি বিমল সাহা, কবি বকুল মোহাম্মদ, কবি ইলিয়াস শাহীন, কবি সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি, ছড়াকার আব্দুল অদুদ, সাংবাদিক চন্দন সেনগুপ্ত, সাংবাদিক সাকিব হাসান, কবি বাপ্পী চৌধুরী, কবি আলী আকবর বাবুল, প্রাবন্ধিক ও কবি দীপ্তি ইসলাম, ছড়াকার ও প্রকাশক নাফে নজরুল, কবি ও সাংবাদিক মেহেদী হাসান শোয়েব, শিশুসাহিত্যিক ইমরান পরশ, কবি শামীমা সুলতানা, কবি ও শিশুসাহিত্যিক খালেদ সরফুদ্দিন এবং কবি কামরুল ইসলাম।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..