রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বিআইডব্লিউটিএর সহকারী সমন্বয় কর্মকর্তা আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ বেতাগীতে বিধবা গৃহবধূকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ রেলের টেন্ডারে শত কোটি টাকার কারসাজির অভিযোগের কেন্দ্রে ‘আফসার’ সিন্ডিকেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র সেকেন্ড ডিজি খ্যাত বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের গডফাদার মাসুম বিল্লাহ কি আইনের উর্ধ্বে আদমদীঘিতে শুমারি স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগে ফলাফলে প্রশংসা, নির্বাচিতদের আ.লীগ ট্যাগে প্রচারণা মেধার স্বীকৃতি হিসেবে ৪২ মেধাবী শিক্ষার্থীকে ‘রাজকীয়’ সম্মাননা দিলো মোরেলগঞ্জ মডেল একাডেমি তাড়াইলের গজেন্দ্রপুর দালানবাড়ি মাদরাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ভিত্তিহীন: তদন্ত কমিটি আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব সাইফুল হাসানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ যশোরের বসুন্দিয়া ভূমি কর্মকর্তা পলাশের ‘হাদিয়া’র নামে ওপেন সিক্রেট ঘুষ বাণিজ্য: মাদ্রাসার জমি নামজারিতেও ৪০ হাজার টাকা ঘুষ! ধানমন্ডিতে ১২ বছরের গৃহকর্মী শিশু রিক্তার মৃত্যু: অভিযুক্ত পাউবো প্রকৌশলী সবিবুর রহমান দম্পতির ১৫ দিনে জামিন, নেপথ্যে টাকা নাকি চাপ?

মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে আওয়ামী কমিশনার সফি উল্লাহ সফির বিশ্বস্ত হাতিয়ার উমেদার ‘আওলাদ সিন্ডিকেট’ জিম্মি সাধারণ সেবাগ্রহীতারা

বিশেষ প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৭৫৬ বার পঠিত

সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের উমেদার মূলত কোনো আইনি পদ নয়, বরং তারা মৌখিকভাবে বা দৈনিক মজুরিভিত্তিক (কখনো মাত্র ৬০ টাকা বা অনির্ধারিত) চুক্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত অস্থায়ী কর্মচারী। তারা দলিল লেখক বা সাব-রেজিস্ট্রারের আদেশে অফিসে দাপ্তরিক কাজের সহায়তা করার পাশাপাশি ঘুষ আদান-প্রদান ও অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের উমেদার সম্পর্কে মূল বিষয়:

নিয়োগের ভিত্তি: কোনো স্থায়ী বা সরকারি নিয়োগপত্র ছাড়াই সাব-রেজিস্ট্রার বা দলিল লেখকদের মাধ্যমে এরা “উমেদার” বা সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করে

দায়িত্ব: দলিলপত্র আনা-নেওয়া, সিরিয়াল বজায় রাখা এবং বিভিন্ন ফাইলের কাজে অফিসের কর্মচারী ও দলিল লেখকদের সহায়তা করা

আইনি অবস্থান: এরা সরকারি কর্মচারী নন, তাই তাদের কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্ব বা কাজের পরিধি আইনিভাবে সংজ্ঞায়িত নয়

দুর্নীতি ও অনিয়ম: উমেদারদের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো, তারা দলিল লেখকদের হয়ে সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘুষ প্রদান এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নির্ধারিত ফিসের অতিরিক্ত অর্থ আদায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে

নিয়ন্ত্রণ: সাধারণত সাব-রেজিস্ট্রার বা অফিসের প্রধান সহকারী তাদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন

সতর্কতা: সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল বা অন্যান্য কাজ করার সময় অফিসিয়াল ফিস ছাড়া যেকোনো উমেদার বা কর্মচারীকে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সব কাজ, বিশেষ করে দলিলের ফিস ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দেওয়া উচিত

তবে আওলাদ হোসেন গংদের চিত্র ভিন্ন। ওপেন ঘুষ নেওয়ার ভিডিও এসেছে দুর্নীতির ডায়েরির হাতে। এই আওলাদ হোসেন গং বিগত আওয়ামী সরকারের সময় স্থানীয় আওয়ামী কমিশনার সফি উল্লাহ সফির ছত্রছায়ায় তেজগাঁও রেজিস্ট্রি অফিসে উমেদার ও নকলনবিশ হলেও সে চালাতেন স্টিম রোলার। তখন এই আওলাদ বাহিনীর ভয়ে মুখ খুলতে পারতো না অন্য সব সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের নকলনবিশ ও উমেদাররা। এমন অভিযোগ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অসংখ্য সাধারণ নকলনবিশ ও উমেদার

বিগত আওয়ামী সরকারের সময় স্থানীয় আওয়ামী কমিশনার সফি উল্লাহ সফির সাথে সখতার প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন পোস্টার, ফেস্টুন থেকে। আওয়ামী সরকারের পতনের পর ডক্টর ইউনূসের সরকার চলে গেলেও বহাল তবিয়তে স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের ফ্যাসিবাদের সহযোগী এই আওলাদ বাহিনী। মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল রেজিস্ট্রেশন করতে হলে সরকারি ফির বাইরে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। আর তা না হলে পোহাতে হয় অনেক অহেতুক জ্বালা-যন্ত্রণা। যেমন পর্চা নয়-ছয়, খাজনা সমস্যা, মালিকানা ঝামেলা, দাগ-খতিয়ান ঠিক নাই—উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন সব অভিযোগ এনে হাতিয়ে নেওয়া হয় মোটা অঙ্কের টাকা। আর যদি টাকা দেওয়া হয় তা হলে নাল জমিকে খাল, ভিটাকে নাল, আবাসিককে অনাবাসিক করে সরকারি ফি কমিয়ে দেওয়া হয় দলিলের

এই ৬০ টাকা ডেইলি হাজিরার উমেদার ও নকলনবিশ চড়েন দামী গাড়িতে, থাকেন আলিশান ফ্ল্যাটে, ইচ্ছে হলেই কারণে-অকারণে ভ্রমণ করেন বিদেশে। এদের রয়েছে বিশাল সম্পদের পাহাড়

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গত ১৮/৩/২০২৬ তারিখে গুলশান অফিসের নকলনবিশের নিকট ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা হয়। যার নম্বর ১০, আওলাদ হোসেন ও তার সহোদর ভাই মোহাম্মদ আকিব গংদের বিরুদ্ধে। তবুও থেমে নেই এই দুর্ধর্ষ নকলনবিশ আওলাদ হোসেন গং। শুধুই মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস নয়, ঢাকার সকল সাব-রেজিস্ট্রার অফিস দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী নির্যাতিত প্রতারিত অন্যান্য নকলনবিশ ও উমেদারদের। তবে এরা কেউ বৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী নয়, যা সরকারের গেজেট অনুযায়ী দেখা যায়। কিন্তু এই উমেদার বা নকলনবিশ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের বস। এদের ইশারা ছাড়া কোনো দলিল সই করেন না সাব-রেজিস্ট্রার—এমন অভিযোগ সাধারণ মানুষের মুখে মুখে

এই সব অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে জানতে মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। যার কারণে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..