বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ৪৮ বিঘা আয়তনের একটি মৎস্য ঘেরের দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা ও বাগেরহাটে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের উত্তর সুতালড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের রাত ৯টার দিকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গুরুতর আহত নাজিম মাহমুদ জুয়েল (৪৫), মাহবুব জমাদ্দার (৫০), লিটন সরকার (৪৫) ও জুয়েল চৌকিদারকে (৩০) উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মাসুদ শেখ রিদয় (২৭), এনায়েত ফকির (৩৮), ইব্রাহিম খলিল (২৮), সুজন তালুকদার (২৫) ও সুমন তালুকদার (৪০) প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
অন্যদিকে, আহত রাজীব হাওলাদার (২৫), মারুফ হাওলাদার (২৭) ও শহিদ হাওলাদারকে (৫০) বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘেরটির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধে থাকা নাজিম মাহমুদ জুয়েল অভিযোগ করে বলেন, রাকিব হাওলাদারের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ঘেরে হামলা চালায়। এতে তাদের পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তবে রাকিব হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জুয়েলের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল ঘেরে হামলা চালিয়ে মাছ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ঘেরের একটি ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে তিনি দাবি করেন। পরে এলাকাবাসী বহিরাগতদের ধাওয়া করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে বলে তার ভাষ্য।
স্থানীয়রা জানান, মৎস্য ঘেরটির দখল ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে এর আগেও কয়েক দফা বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের পাশাপাশি থানা ও আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃষ্ণপদ সরকার বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।